2.5 C
London
March 4, 2024
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

অভিবাসনবিরোধী’ ইটালির সরকারের বিদেশি কর্মী নির্ভরতা

ইটালির সরকার অনিয়মিত অভিবাসনের বিপক্ষে কড়াকড়ি আরোপের কথা বললেও কর্মী সংকট মেটাতে বিদেশিদের জন্য কাজের দুয়ার খুলে দিচ্ছে৷ সরকারের দাবি, তারা বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহ দেয়৷

ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনির অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে৷ গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পরই সমুদ্রপথে অনিয়মিত উপায়ে আসা অভিবাসন বন্ধে নানা উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম হন মেলোনি৷ তবে এই কড়াকড়ির বিপরীতে কর্মী ঘাটতি মেটাতে কয়েক হাজার অভিবাসীকে দেশটিতে বৈধভাবে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে মেলোনি সরকার৷

বয়স্ক মানুষের সংখ্যা আর দ্রুত জনসংখ্যা কমার দিক থেকে ইটালি অবস্থান শীর্ষে৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০৫০ সাল নাগাদ ইটালির জনসংখ্যা বৃদ্ধির বদলে ৫০ লাখ কমে যাবে৷ জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি থাকবে ৬৫ বছরের উপরে৷ যার কারণে শিল্প,নির্মাণ, পর্যটন ও কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে তাই প্রয়োজন প্রচুর তরুণ কর্মী৷

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তনিও তাজানি এরইমধ্যে টিউনিসিয়ার সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি একটি চুক্তি করেছেন৷ এর আওতায় বছরে চার হাজার টিউনিসিয়ানের জন্য ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিটের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে৷ তিনি জানান, তার সরকার বৈধ অভিবাসনের বিরোধী নয়৷ বলেন, ‘‘ইটালি ও ইউরোপে কারা প্রবেশ করবে সেটি আমরা বাছাই করতে চাই, মানবপাচাকারীরা নয়৷’’

শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক রক্ষণশীল আইনজীবী গুইলিয়ানো কাজ্জোলা মনে করেন, অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যার বাস্তবতা সরকারের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানকে উদার করছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি পুরোপুরি একমত যে অভিবাসনই ইটালির জনসংখ্যা বৃদ্ধির সবচেয়ে সহজ উপায়৷ কেননা আজকে যে শিশুর জন্ম হবে ২০ বছর পর সে শ্রমবাজারে ঢুকবে৷ অন্যদিকে যে ২০ বছর বয়সে এখানে আসছে, তাকে আপনি এখনই কাজে লাগাতে পারেন৷’’

শুধু ইটালি নয়, এমন পরিস্থিতিতে আছে ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি বা জাপানও৷

মেলোনি সরকার অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে বড় আওয়াজ দিলেও সরকারের এ নিয়ে সফলতা এখনও সীমিত৷ উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনের সংখ্যা চলতি বছর এরইমধ্যে প্রায় এক লাখ ৫৩ হাজারে পৌঁছেছে, যেখানে গত বছরের এই সময়ে সংখ্যাটি ছিল ৯৬ হাজার৷

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের জন্য ২০২৩-২৫ সালের কাজের ভিসার নির্ধারিত কোটা ৪ লাখ ৫২ হাজারে উন্নীত করেছে ইটালির সরকার৷ এটি তার আগের তিন বছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি৷ শুধু চলতি বছরের জন্য এই কোটা ছিল এক লাখ ৩৬ হাজার, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ৷

এই ভিসা মূলত ইটালিতে বসবাস করছেন, কিন্তু নিবন্ধিত হননি তাদের জন্য বরাদ্দ৷ যাতে তারা বৈধ হওয়ার সুযোগ পান৷

তারপরও এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়৷ ব্যবসায়ী ও ইউনিয়নগুলোর কাছ থেকে আসা চাহিদা অনুযায়ী সরকার একটি হিসাব করেছে৷ তাতে ২০২৩-২৫ সালে আট লাখ ৩৩ হাজার ভিসা অনুমতি প্রয়োজন৷ চলতি বছর এই কোটায় ভিসার আবেদন জমা পড়েছে ছয় লাখের বেশি৷

ইটালিতে সবচেয়ে বেশি সংকট রয়েছে উত্তরের অপেক্ষাকৃত ধনী প্রদেশ ব্রেশাতে৷ সেখানে বেকারত্বের হার মাত্র চার শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের অর্ধেক৷

ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে চালু করা একটি স্কিমের আওতায় সরাসরি আশ্রয়প্রার্থীদের রিসেপশন সেন্টার বা অভ্যর্থনা কেন্দ্র থেকে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে৷ ব্রেশাতে শিল্পখাতের পরিচালিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান পাওলো বেত্তোনি বলেন, ‘‘আমরা মরিয়া হয়ে কর্মীর খোঁজ করছি৷ আমরা ইটালির তরুণদের কাছ থেকে কোনো আবেদন পাই না, কেননা ম্যানুয়াল শ্রমের প্রতি তাদের আর আগ্রহ নেই৷ একে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির কাজ বলে মনে করে৷’’

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা এখন পর্যন্ত আশ্রয়প্রার্থীদের ৮০০ জনের প্রার্থী তালিকা থেকে ২০০ জনকে নিয়োগ দিয়েছে৷

কম দক্ষতা প্রয়োজন এমন খাতেই মূলত কর্মীর সংকট রয়েছে৷ অনেকের মতে কাজের পরিবেশ ও বেতন আকর্ষণীয় না হওয়াই এর অন্যতম কারণ৷ ইটালি ৩৮ সদস্যের ওইসিডির একমাত্র দেশ যেখানে মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় গত ৩০ বছরে প্রকৃত মজুরি কমেছে৷

এম.কে
০৭ ডিসেম্বর ২০২৩

আরো পড়ুন

কর্মসংস্থানের অভাবে ভারতীয়রা ইসরায়েল যাচ্ছে

বাংলাদেশিসহ ২০০ অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো রুমানিয়া

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের দখলে তিন শ’র বেশি সামরিক ঘাঁটি