16.2 C
London
March 2, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন আনছেন শাবানা মাহমুদ, লেবার পার্টির ভেতরেই বাড়ছে বিরোধিতা

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও আশ্রয়ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন আইন প্রস্তাবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ক্রমবর্ধমান অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং আশ্রয়ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতেই এই কঠোর সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ব্রিটেনের তুলনামূলক উদার আশ্রয়নীতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিবাসীদের আকৃষ্ট করছে, যার সুযোগ নিচ্ছে মানবপাচারকারী চক্র। একই সঙ্গে ভুয়া আশ্রয় আবেদন বৃদ্ধিও সরকারের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে চরম ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান ঘটতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংস্থা আইসিই (আইস)–এর মতো অভিযান চালিয়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সমাজে বিভাজন বাড়াবে।

সরকার আশা করছে, নতুন এই নীতি রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা কমাতে সহায়ক হবে। তবে সাম্প্রতিক গর্টন ও ডেন্টন উপনির্বাচনে লেবার পার্টির তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়ার পর দলটির ভেতরেই নীতিটি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির প্রায় ৪০ জন সংসদ সদস্য এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে পারেন। তাদের মতে, প্রস্তাবিত আইন অতিরিক্ত কঠোর এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।

দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাবানা মাহমুদ বলেন, অবৈধ অভিবাসনের বর্তমান পরিস্থিতি দেশের জনসেবা ব্যবস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। তার মতে, এটি সরকার ও নাগরিকদের মধ্যকার আস্থার সম্পর্ককেও দুর্বল করে দিচ্ছে।

নতুন নীতি প্রণয়নের আগে তিনি ইউরোপের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থার দেশ ডেনমার্ক সফর করেন। দীর্ঘদিন ধরেই ডেনমার্কের অভিবাসন মডেলের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন তিনি।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে দেশটিতে আশ্রয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অস্থায়ী করা হয় এবং প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকাংশকেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নীতি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে আশ্রয় আবেদন সংখ্যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জানা যায়।

কোপেনহেগেনের উপকণ্ঠে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণকেন্দ্র ও প্রত্যাবাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শাবানা মাহমুদ, যেখানে আগত অভিবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং ফেরত পাঠানোর পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

লেবার পার্টির একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিবাসন প্রশ্নে দৃঢ় পদক্ষেপ না নিলে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাদের দাবি, মাহমুদের পরিকল্পনা একদিকে যেমন কঠোর, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত ও মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এই নীতি লেবারের ঐতিহ্যগত মানবিক অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি–এর অবস্থান এবং রিফর্ম ইউকের কঠোর অভিবাসন দাবির মাঝামাঝি অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যু এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, মানবিক দায়িত্ব এবং ভোটরাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা করাই লেবার সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে নতুন তথ্য দিল ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা

যুক্তরাজ্যে প্রাইভেট বাড়ির মালিক ও হোটেল মালিকরা ‘ঘর সংকটে’ লাভবান হচ্ছে

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে রেস্টুরেন্ট শেফের ভিডিও ভাইরাল, প্রশ্ন ফুড হাইজিন নিয়ে