18.1 C
London
October 4, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

আইএমএফের শর্ত আর নয়ঃ ঋণ কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আর কোনো শর্ত বাংলাদেশ মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে আইএমএফের সঙ্গে চলমান কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে এখন থেকে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে তাদের শর্ত মেনে অর্থনীতি পরিচালনার পরিবর্তে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও আর্থিক বাজারকে কাজে লাগানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন এবং এত বড় অর্থের প্রয়োজন মেটাতে শুধু আইএমএফের ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।

সরকারের বিকল্প অর্থায়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহ। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার বন্ড ছাড়ার পাশাপাশি পান্ডা বন্ড, সামুরাই বন্ড এবং স্থানীয় মুদ্রার বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ ও দাতা সংস্থার অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের আর্থিক কাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান কর্মসূচির পেছনে রয়েছে কয়েক বছরের অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ। ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফ বাংলাদেশকে বর্ধিত ঋণ সুবিধা ও বর্ধিত তহবিল সুবিধার আওতায় প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আরও প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবস্থা অনুমোদন করেছিল।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড বাংলাদেশের কর্মসূচির পরিমাণ বাড়িয়ে বর্ধিত ঋণ ও বর্ধিত তহবিল সুবিধার আওতায় মোট সহায়তা প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে। একই সঙ্গে জলবায়ু-সম্পর্কিত সহায়তার জন্য প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবস্থা রাখা হয়। ওই পর্যালোচনার সময় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮৮৪ মিলিয়ন ডলার ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

আইএমএফের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাড়ানো কর্মসূচিতে বর্ধিত ঋণ ও বর্ধিত তহবিল সুবিধার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন এসডিআর। এর মধ্যে ১ হাজার ১১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন এসডিআর বর্ধিত ঋণ সুবিধা এবং ২ হাজার ২৩ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন এসডিআর বর্ধিত তহবিল সুবিধার জন্য নির্ধারিত ছিল। কর্মসূচিতে পরবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থাও ছিল।

এর আগে ২০২৬ সালের জুনে আইএমএফ জানিয়েছিল, বাংলাদেশ নতুন একটি আইএমএফ-সমর্থিত অর্থনৈতিক কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে। সংস্থাটি তখন বলেছিল, বাংলাদেশের নতুন সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া আগের কর্মসূচিগুলো কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নীতিগত ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলেও আইএমএফ উল্লেখ করে।

তবে নতুন সরকারের অবস্থান এখন ভিন্ন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশি ঋণ গ্রহণের বিনিময়ে শর্ত মেনে চলার পরিবর্তে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিকে বড় করতে পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য আরও বড়। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, কোনো বিদেশি দাতা সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভর না করে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পুঁজিবাজার সম্প্রসারণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির আর্থিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আইএমএফের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আগের কর্মসূচির অধীনে ঋণ ও বিভিন্ন সুবিধার অর্থ পরিশোধের সময়সূচি এখনো রয়েছে। অর্থাৎ নতুন ঋণ কর্মসূচি বা কর্মসূচির অংশগ্রহণ বন্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আগের নেওয়া ঋণের দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ঘোষণার ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি ও বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এখন সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে আইএমএফ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার ঋণের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজার, বন্ড মার্কেট ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা এবং একই সঙ্গে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

সূত্রঃ টিবিএস

এমকে

আরো পড়ুন

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি, পৃথক হলো বিচার বিভাগ

ইতালিতে বাংলাদেশিদের জন্য স্কলারশিপ ও মাষ্টার্সের সুযোগ

পোষাক রপ্তানিতে ভারতের কাছে অবস্থান হারাচ্ছে বাংলাদেশ