8.8 C
London
October 24, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আতঙ্ক নয়, তিন দিনের খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ ব্রিটেন সরকারের

ব্রিটেনে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়িতে তিন দিনের খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখার সরকারি পরামর্শে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সরকারের নতুন ‘বি রেডি’ প্রচারাভিযান চালুর পর জরুরি খাবার ও দুর্যোগ মোকাবিলার সরঞ্জাম বিক্রির অর্ডার বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যাপক আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত কেনাকাটার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের পরামর্শে নাগরিকদের অন্তত তিন দিনের জন্য পর্যাপ্ত বোতলজাত পানি, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার, অতিরিক্ত ব্যাটারিসহ টর্চ, হাত দিয়ে চালানো যায় এমন এফএম রেডিও, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স এবং পাসপোর্টের একটি কপি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। তীব্র আবহাওয়া, বন্যা কিংবা সাইবার হামলার কারণে জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হলে এসব সামগ্রী কাজে আসতে পারে।

সরকারের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বাড়িতে আগে থেকে কী কী প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে, তা যাচাই করে নিতে হবে। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য কেনার পরিবর্তে নিয়মিত বাজার করার সময় ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও বাজারে পণ্যের ঘাটতি এড়ানো।

জরুরি খাবার ও দুর্যোগ মোকাবিলার সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সার্জেন্ট প্রেপার শপের সহমালিক জ্যাক ব্রাউন জানিয়েছেন, ‘বি রেডি’ প্রচারাভিযান শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় তাদের কাছে এক মাসের সমপরিমাণ অর্ডার এসেছে। অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি অর্ডার আসায় প্রথমে তিনি নিজের ফোনে কোনো সমস্যা হয়েছে কিংবা সেটি হ্যাক করা হয়েছে বলে সন্দেহ করেছিলেন।

ব্রাউনের মতে, সরকারের পরামর্শ বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পানির প্রধান পাইপ ফেটে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা বন্যার মতো অনেক জরুরি পরিস্থিতি তিন দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তাই তিন দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শটি কার্যকর বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, এক মাসের খাবার মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হলে অনেকের কাছে বিষয়টি ব্যয়বহুল ও কঠিন মনে হতে পারত। কিন্তু তিন দিনের সরবরাহ বাড়ির একটি আলমারিতেই রাখা সম্ভব। হাত দিয়ে চালানো যায় এমন রেডিওর কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। টর্চ ও মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার ইউএসবি সুবিধাযুক্ত রেডিও জরুরি সময়ে বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ও মানবিকবিদ্যা বিভাগের সহযোগী ডিন ড. সারিতা রবিনসন বলেন, জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে এ ধরনের সরকারি বার্তা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে—এমন ধারণার পক্ষে খুব বেশি প্রমাণ নেই। তার মতে, জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হলে মানুষ আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারে। বরং তথ্য গোপন করা হলে কিংবা তথ্যের ঘাটতি তৈরি হলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সরকারের নতুন প্রচারাভিযানকে বাস্তবসম্মত ও আশ্বস্ত করার মতো উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন রবিনসন। তার মতে, জনগণকে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, জরুরি প্রস্তুতিসামগ্রীবিষয়ক ওয়েবসাইট স্টার্ট প্রেপিং ইউকের প্রতিষ্ঠাতা ড্যান গস জানিয়েছেন, আগস্টে সরকারের এই প্রচারাভিযানের খবর সামনে আসার পর থেকে তাদের ওয়েবসাইটে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৭০০ শতাংশ বেড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সহজ ভাষায় তুলে ধরায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

গস বলেন, ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হতে হলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে একই সময়ে সরকারি পরামর্শকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। সব ঘটনা বড় ধরনের বিপর্যয় না হলেও স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। এ কারণে সরকারি পরামর্শটি প্রয়োজনীয়।

কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতাও জরুরি প্রস্তুতির বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন রবিনসন। মহামারির সময় সুপারমার্কেটের তাক খালি হয়ে যাওয়ার দৃশ্য অনেকের মনে রয়েছে। তার উল্লেখ করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারির কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বাড়িতে খাবার, মাস্ক ও জীবাণুনাশক রাখার মতো সীমিত প্রস্তুতি নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

ব্রিটিশ সরকারের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্যকে তিনি স্বাভাবিক দৈনন্দিন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, বাড়িতে প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী রাখা মানেই বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হওয়া নয়; বরং অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটেনেও এটিকে সাধারণ প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

অবৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জড়িত সন্দেহে কর্মকর্তা বরখাস্ত

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী পরিবারকে এ-লেভেল পরীক্ষার ২ দিন আগে স্কটল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

নিউহ্যামে অবৈধভাবে কাজঃ ডেলিভারি রাইডারসহ ৬০ জনকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু