14 C
London
March 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আফগানিস্তানসহ চার দেশের স্টাডি ভিসা বন্ধ, আশ্রয় নীতিতে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে লন্ডন

অভিবাসনবিরোধী জনমত বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী ভিসায় এসে আশ্রয় আবেদন বাড়ার প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের জন্য স্টাডি ভিসা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। পাশাপাশি আফগান নাগরিকদের জন্য ওয়ার্ক ভিসাও স্থগিত করা হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর হোম অফিস জানায়, এই চার দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ভিসায় “ইমার্জেন্সি ব্রেক” বা জরুরি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় আবেদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদান থেকে স্টাডি ভিসায় আসা শিক্ষার্থীদের আশ্রয় আবেদন ৪৭০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার বলছে, এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই নীতিগত কঠোরতার প্রধান কারণ।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, “যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের ব্রিটেন সবসময় আশ্রয় দেবে, তবে আমাদের ভিসা ব্যবস্থা অপব্যবহার করা চলবে না।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের উদারতার সুযোগ নিতে চাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন হলেও প্রয়োজনীয়।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অভিবাসন এখন অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে জনমত জরিপে উত্থান ঘটিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক চাপও সরকারের নীতিগত কড়াকড়ির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর সরকার ইতোমধ্যে আশ্রয় প্রক্রিয়া কঠোর করেছে এবং অবৈধভাবে আগতদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ জোরদার করেছে। জনমতের কঠোর অবস্থান প্রশমিত করা এবং রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার অভিবাসন বিধিমালায় পরিবর্তনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও কঠোর আশ্রয় প্রক্রিয়ার রূপরেখা উপস্থাপন করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সরকারের পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন নিয়মে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের শরণার্থী মর্যাদা প্রতি ৩০ মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশটিকে আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তোলাই লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীভিত্তিক আশ্রয় আবেদন ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলেও, স্টাডি ভিসায় আগতরা এখনও মোট আশ্রয় দাবির ১৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করছে সরকার।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য নির্বাচনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল রুশনারা আলীকে

ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগ থাকলে বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসার আবেদন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনের ব্যাকলগ নিয়ে সমস্যায় সরকার