যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সামরিকভাবে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কয়েক মাস আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী পদক্ষেপ না নিলে ইরান এতদিনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার সমালোচনা করে বলেন, “ইরাকের দিকে তাকান, সেখানে আমাদের কত বড় ক্ষতি হয়েছে। আমরা ভয়াবহ ভুল করেছি। শুরুতেই সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ইরানেও যাওয়া উচিত হয়নি। কিন্তু ইরানের এমন সক্ষমতা ছিল, যা আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”
ট্রাম্প দাবি করেন, প্রায় নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল, সেটি না হলে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।
তার ভাষায়, “নয় মাস আগে আমরা যদি বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর আঘাত না হানতাম, তাহলে আজ তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত। তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম হতো। হয়তো আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি অংশকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেনি।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের সামরিক বাহিনীকে কিছুটা এড়িয়ে চলেছি, কারণ আমাদের ধারণা তারা তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী। তবে অন্য যেসব অংশকে আমরা উগ্রপন্থী হিসেবে বিবেচনা করেছি, সেগুলোই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ট্রাম্প অতীতের বিভিন্ন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, যুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষের সব অবকাঠামো ও সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়ার কৌশল দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক ফল বয়ে আনে।
তিনি বলেন, “অতীতে এমন ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের সময় সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে এমন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে, যা ৪০ বছর পেরিয়েও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে একদিকে যেমন ইরাক ও ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আত্মসমালোচনার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অতীতের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে তিনি এখনও প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক বলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন নতুন করে আলোচনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্রঃ ফক্স নিউজ
এম.কে

