TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আশ্রয়প্রার্থী চুক্তি ঘিরে আইনি লড়াইঃ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রুয়ান্ডার অভিযোগ

রুয়ান্ডা সরকার যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে বাতিল হওয়া বিতর্কিত অভিবাসী চুক্তির আওতায় পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কিগালি।

রুয়ান্ডা নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশ আদালতে (Permanent Court of Arbitration) একটি মামলা দায়ের করেছে। দেশটির দাবি, যুক্তরাজ্য আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর চুক্তির অধীনে যে আর্থিক ও নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এই অভিবাসী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল যুক্তরাজ্যের পূর্ববর্তী রক্ষণশীল সরকার আমলে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে রুয়ান্ডায় পাঠাবে এবং বিনিময়ে দেশটির আশ্রয় ব্যবস্থা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রদান করবে।

তবে ২০২৪ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার চুক্তিটি বাতিল করেন। এর পর যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, চুক্তি বাতিল হওয়ায় পরিকল্পিত ভবিষ্যৎ অর্থপ্রদান হিসেবে ধরা ২২০ মিলিয়ন পাউন্ড রুয়ান্ডাকে দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের রুয়ান্ডা নীতি করদাতাদের বিপুল সময় ও অর্থ অপচয় করেছে। ব্রিটিশ করদাতাদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আমাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব।”

রুয়ান্ডা সরকার সরাসরি বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রুয়ান্ডার সংবাদপত্র নিউ টাইমস-এ প্রকাশিত সালিশ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি বহিরাগত নিবন্ধের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, সালিশ প্রক্রিয়াটি মূলত চুক্তির অধীনে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পালনের ব্যর্থতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গড়ে উঠেছে। রুয়ান্ডার দাবি, চুক্তি বাতিল হলেও পূর্বে গৃহীত অঙ্গীকার থেকে যুক্তরাজ্য একতরফাভাবে সরে আসতে পারে না।

এই আইনি লড়াই যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে অন্যান্য দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে আলোচনায় আপসানা বেগমঃ কাউন্সিল হাউসে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে ন্যায্যতা নিয়ে

নিউজ ডেস্ক

সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ঋষি সুনাক দম্পতির

কাতার বিশ্বকাপে মরুভূমির উত্তাপে স্টেডিয়াম শীতল হবে যেভাবে