19.5 C
London
October 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে ‘আমেরিকান কোভিড’ ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি ৫০ শতাংশ বেড়েছে

ইংল্যান্ডে করোনাভাইরাসের নতুন এক্সএফজি বা ‘স্ট্রাটাস’ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভ্যারিয়েন্টটিকে ‘আমেরিকান কোভিড’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে করোনা শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে লন্ডনে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয়েছে। সেখানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন ভ্যারিয়েন্টটির বিস্তার নিয়ে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট মহলে সতর্কতা বাড়ছে।

নতুন আক্রান্ত রোগীদের অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে এক্সএফজি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে এই ভ্যারিয়েন্টের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এক্সএফজি বা ‘স্ট্রাটাস’ আক্রান্তদের মধ্যে গলা ব্যথা, কাশি, জ্বর, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ অনেকটাই সাধারণ সর্দি-জ্বর বা ফ্লুর মতো হওয়ায় শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে করোনা ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ভ্যারিয়েন্টটির কারণে সামগ্রিকভাবে রোগের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—এমন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের পরামর্শ। একই সঙ্গে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকা বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে প্রবীণ নিবাসে থাকা ব্যক্তি এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের শরৎকালীন করোনা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শীত মৌসুম সামনে থাকায় শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টিকাদান ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নতুন ভ্যারিয়েন্টটির বিস্তার, হাসপাতালে ভর্তি এবং রোগের তীব্রতার ওপর নজর রাখছে। করোনা সংক্রমণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত এক্সএফজি ভ্যারিয়েন্টকে আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় বেশি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করে—এমন নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

সূত্রঃ যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (UKHSA)\ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

এমকে

আরো পড়ুন

শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে যুক্তরাজ্যে ৩ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

যুক্তরাজ্যে “জেস’স রুল” চালুঃ তিনবারেও রোগ নির্ণয় না হলে জিপিকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর নির্দেশ

গরমে পুড়ছে লন্ডন, সতর্কতা জারি