ইংল্যান্ডে বসবাসের জন্য সেরা জায়গাগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে মিডল্যান্ডসের বিখ্যাত শহর স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভন। নতুন এক গবেষণায় কম অপরাধের হার, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, খোলা জায়গা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মতো বিষয় বিবেচনা করে বিভিন্ন শহর ও এলাকার তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনে বসবাসকারীরা বড় শহরের অপরাধ, শব্দ ও দূষণ থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে শান্ত পরিবেশে জীবনযাপন করার সুযোগ পান। গবেষণার বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা, খোলা জায়গা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সমন্বয় থাকা এলাকাগুলো বসবাসের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনের অপরাধের হার ২৩তম সর্বনিম্ন। শহরটিতে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে অপরাধের হার ৬৫টি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বড় শহরগুলোর তুলনায় এখানে গুরুতর অপরাধ তুলনামূলকভাবে বিরল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও শহরটি এগিয়ে রয়েছে। স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভন ও এর আশপাশে ২৬টি হাঁটার পথ রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন পথে হাঁটার সুযোগ পান।
ওয়ারউইকশায়ারের এই শহরটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জন্মস্থান হিসেবে। প্রতি বছর যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা শহরটি ভ্রমণ করেন। এই কারণে অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ইংল্যান্ডের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
তবে শহরটিতে বসবাসের খরচও কম নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনে একটি বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড।
বিশ্লেষণে শহরটিকে দেশের অন্যতম সুখী ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগের দিক থেকে এগিয়ে থাকা স্থান হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নতুন গবেষণায় উত্তর ইয়র্কশায়ারের মনোরম শহর স্কিপটন তালিকার শীর্ষে রয়েছে। গবেষণাটি করেছে ম্যানহাটন মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলিং। তাদের বিশ্লেষণে অপরাধের হার, হাঁটার পথ এবং আশপাশের পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্যে বলা হয়েছে, স্কিপটনে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে অপরাধের হার ৫১টি এবং অলট্রেইলসে শহর ও আশপাশে ১১৮টি হাঁটার পথ তালিকাভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি শহরটির সৌন্দর্য ও দর্শনীয় স্থানগুলোর জনপ্রিয়তার একটি সূচক হিসেবে ইনস্টাগ্রামে ২ লাখ ৫৯ হাজার হ্যাশট্যাগ থাকার বিষয়টিও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় বাথ, ইনভারনেস এবং কেমব্রিজের মতো আরও কয়েকটি পরিচিত স্থানও রয়েছে।
গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বলতে শুধু নিরিবিলি রাস্তা বোঝায় না। কাছাকাছি হাঁটার পথ থাকা, শহরের ব্যস্ততা থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য দূরে যাওয়ার সুযোগ এবং তুলনামূলক কম ব্যস্ত পরিবেশও একটি এলাকার শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।
সূত্রঃ বার্মিংহাম মেইল
এমকে

