ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া—স্কাই নিউজের ব্রেকিং ঘোষণায় ট্রাম্প প্রশাসনে অস্বস্তি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কূটনৈতিক চাপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ লাইভ সম্প্রচারের সময় হঠাৎ ব্রেকিং নিউজ দিয়ে জানায়, রাশিয়া ইরানকে এমন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে যা ব্যবহার করে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। বিষয়টি সামনে আসার পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
স্কাই নিউজের উপস্থাপক আনা জোন্স এবং কামালি মেলবোর্ন লাইভ সম্প্রচার চলাকালে এই খবর ঘোষণা করেন। তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কো ইরানকে এমন তথ্য দিতে পারে যা দিয়ে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে—এমন অভিযোগ সামনে এলেও এতে আমেরিকান সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি নেই। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের বাহিনী নিরাপদ রয়েছে।
স্কাই নিউজের রাশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা আইভর বেনেট বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া তেহরানকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তথ্য দিয়ে থাকতে পারে—এমন অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি এবং মস্কোও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করেনি।
বেনেট আরও জানান, রাশিয়া ও ইরান দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ড্রোন রাশিয়াকে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—মস্কো কি সেই সহযোগিতার প্রতিদান দিতে তেহরানকে সহায়তা করছে?
তবে এই পরিস্থিতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্যও জটিলতা তৈরি করতে পারে। কারণ তিনি একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ নষ্ট করতে চান না। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অনুকূল ফল পাওয়াকে ক্রেমলিন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
এদিকে এই অভিযোগ সামনে আসে হোয়াইট হাউসে একটি গোলটেবিল বৈঠকের সময়। সেখানে ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন—রাশিয়া কি ইরানকে তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় সহায়তা করছে?
প্রশ্নটি শুনে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিককে থামিয়ে দেন এবং বিষয়টিকে তুচ্ছ করে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা অন্য একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন এবং এই মুহূর্তে এমন প্রশ্ন করা “বোকামি”। তার এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি সত্যিই ইরানকে সামরিক গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে থাকে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্কের ওপরও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

