15.9 C
London
October 27, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে মক্কা চুক্তির ৩ দেশঃবাড়ছে আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাতে সৌদি আরবের সম্পৃক্ততা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতাভুক্ত তিন দেশের সঙ্গে ইরানের এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেবেন বলে সৌদি ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি চলমান উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি গোষ্ঠীর হামলা বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। দুই পক্ষই বৃহত্তর সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলোর কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে তিন দেশের সঙ্গে ইরানের এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কাতার।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উদ্যোগে সোমবারের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সফরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকগুলোতে ইরানি কর্মকর্তারা মুনিরকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। তবে সোমবারের বৈঠকে এ অবস্থানের পরিবর্তন হবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনটিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে জুনে পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। ফলে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা সামনে এসেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলি বাঘেরি-কানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা, ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বৈঠক থেকে কোনো সমঝোতা বা উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্রঃ রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

রোমানিয়ায় আটক ৮০০ অনিয়মিত অভিবাসী, ডিপোর্ট শতাধিক

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন ইলন মাস্ক, জার্মান সরকারের অভিযোগ

গভীর হতাশায় ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া মুসলিমরা