মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিশালী আঘাত’ হেনেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
‘শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব সম্পদ ইরানের সেনাবাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত হাফ ডজন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফারস নিউজ বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।
আমিরাতের আবু ধাবিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ও জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি রিয়াদে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর পুনরায় সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জোর দিয়ে বলছে, এর জবাবে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার বৈধ অধিকার তেহরানের রয়েছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

