ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে অবৈধ, অযৌক্তিক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত অস্থিতিশীলতার অংশ, যা গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননের চলমান উত্তেজনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
এক বিবৃতিতে পেদ্রো সানচেজ বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি এ ধরনের কার্যক্রমকে “অন্যায়” উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
স্পেন ইতোমধ্যে এই সংঘাতে সক্রিয় বিরোধিতার অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী যাতে স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। এর মাধ্যমে মাদ্রিদ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা এই সামরিক উদ্যোগের অংশ হতে চায় না।
এদিকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় স্পেন সরকার প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরোর একটি সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তুত করছে। এর লক্ষ্য হলো জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত স্প্যানিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পেদ্রো সানচেজ।
তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা দেখা দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরে পেদ্রো সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের প্রতি কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি বহুপাক্ষিকতার প্রতি দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

