ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে সরাসরি টেলিভিশন ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেও শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে দাঁড়ায় হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।
সূত্রগুলো জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে ভাষণ দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেছিলেন। তবে প্রশাসনের কিছু জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এ বিষয়ে আপত্তি জানান, কারণ চুক্তিটির বিভিন্ন দিক তখনও পুরোপুরি স্পষ্ট ও স্থিতিশীল ছিল না।
বিশেষ করে উপদেষ্টাদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল, এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এই চুক্তিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করলে তা পরবর্তীতে উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
যদিও রয়টার্সের সূত্রগুলো দাবি করেছে, ট্রাম্প ভাষণ দিতে আগ্রহী ছিলেন এবং তাকে তা থেকে বিরত রাখা হয়। তবে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, বিষয়টি কখনোই প্রেসিডেন্টের পর্যায়ে আলোচনা হয়নি এবং এটি “ভুয়া খবর”।
পরবর্তীতে ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে আসন্ন শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি এখনও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং এটি স্থায়ী সমাধানে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, ভাষণ দেওয়ার বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছিল, তবে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি এবং গণমাধ্যমকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের সতর্ক অবস্থানই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে একদিকে তারা কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখাতে চায়, অন্যদিকে চুক্তির অনিশ্চয়তাও বিবেচনায় রাখছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

