7.7 C
London
October 21, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা স্বীকার মার্কিন দূতেরঃ সামনে এলো ‘অনিচ্ছাকৃত পরিণতির’ কথা

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো অবস্থান জানাতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক। তবে এই সংঘাতের ফলে বেশ কিছু ‘অনিচ্ছাকৃত পরিণতি’ তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তার বক্তব্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত কাতার গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে আল জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বে-এর সঙ্গে আলোচনায় এসব মন্তব্য করেন টম ব্যারাক। তিনি তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যারাক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং এর প্রভাব দ্রুত আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে সংঘাতের পরিণতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাসকে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন এই দূত।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার ক্ষেত্রে মূল সমস্যা শুধু কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বা চুক্তির বিষয়বস্তু নয়; বরং দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতিও বড় প্রতিবন্ধকতা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও আইআরজিসির প্রতি আস্থা রাখতে প্রস্তুত নয়।

ব্যারাকের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করা সহজ হবে না। দীর্ঘদিনের বৈরিতা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং পারস্পরিক সন্দেহ শান্তি আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।

হরমুজ প্রণালির সংকট সমাধানের বিষয়ে ব্যারাক বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যুদ্ধবিরতি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তার মতে, এমন চুক্তিতে প্রণালিতে সংঘাত বন্ধ করার পাশাপাশি সাধারণ ইরানি জনগণের ওপর অর্থনৈতিক ও অন্যান্য দুর্ভোগ কমানোর ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

তিনি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে সংকট নিরসনের অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাতের অবসান এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি একসঙ্গে এগিয়ে নিতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। এই পথে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে প্রণালিতে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থও জড়িত।

মার্কিন দূতের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ওয়াশিংটনের সামনে কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে।

তবে টম ব্যারাকের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের পরাজয় স্বীকার হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি সংঘাতের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করেননি। বরং যুদ্ধের অনিচ্ছাকৃত পরিণতি, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে পারস্পরিক অবিশ্বাসের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থার ঘাটতি কতটা কমানো যায় এবং হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধবিরতির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরি করা সম্ভব হয় কি না, সেটিই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এমকে

আরো পড়ুন

‘বোরকা আইন’ কার্যকর পর্তুগালেঃ মুখ ঢাকলে গুনতে হবে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত

বেন গাভির একজন যুদ্ধাপরাধী, ইসরাইলকে কোনো মার্কিন সহায়তা দেওয়া উচিত নয়ঃ বার্নি স্যান্ডার্স

মধ্যপ্রাচ্যে গুগল-মেটা-অ্যাপলসহ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের