মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল-এর ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা ঘিরে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
হান্দালা হ্যাক টিম নামের একটি গোষ্ঠী তাদের ওয়েবসাইটে প্যাটেলের কথিত জীবনবৃত্তান্ত এবং ব্যক্তিগত কিছু ছবি প্রকাশ করে। গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানায়, “এটা শুধু আমাদের শুরু,”—যা ভবিষ্যতে আরও সাইবার হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, হ্যাক হওয়া তথ্যগুলো পুরনো এবং এতে কোনো সরকারি বা গোপন তথ্য জড়িত নেই। সংস্থার মতে, এটি ব্যক্তিগত তথ্যভিত্তিক একটি আক্রমণ, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছে না।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সংস্থাটি ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এর আগে ২০২৪ সালে, প্যাটেলকে সংস্থার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগেই তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছিল। তবে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সেই ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
হ্যাক হওয়া ছবিগুলোতে প্যাটেলকে বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে দেখা যায়—যেমন বিলাসবহুল গাড়ির পাশে, একটি ব্যক্তিগত নাচের অনুষ্ঠানে কসরতরত, সিগার হাতে কিংবা বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অবস্থানরত অবস্থায়। এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হান্দালা গোষ্ঠীর চিহ্ন যুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য ও ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্যগুলো সম্ভবত পুরনো কোনো হ্যাক থেকে সংগৃহীত এবং বর্তমানে পুনরায় প্রকাশ করা হয়েছে। সিনথিয়া কাইজার, যিনি হ্যালসিয়ন র্যানসমওয়্যার রিসার্চ সেন্টার-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, জানান—ইমেইলগুলো অনেক পুরনো বলে মনে হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় এটি পূর্বের কোনো সাইবার অনুপ্রবেশের ফল।
অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেভ শ্রোডার বলেন, ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট সাধারণত সরকারি সিস্টেমের তুলনায় কম সুরক্ষিত থাকে, ফলে হ্যাকারদের জন্য এগুলো সহজ লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। তার মতে, পরিচিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে হ্যাকের দাবি তুলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করাই এ ধরনের গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ হান্দালা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ওয়েব ডোমেইন জব্দ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইরানের মন্ত্রণালয় অব গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সাইবার প্রচারণা, মনস্তাত্ত্বিক অভিযান এবং হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যে ডোমেইন ব্যবহার করে প্যাটেলের বিরুদ্ধে এই হ্যাকিং কার্যক্রম চালানো হয়েছে, সেটি নিবন্ধন করা হয় একই দিনে, যেদিন মার্কিন কর্তৃপক্ষ গোষ্ঠীটির অন্যান্য ডোমেইন জব্দ করে।
হান্দালা গোষ্ঠী দাবি করেছে, তাদের ওয়েবসাইট জব্দ এবং পুরস্কার ঘোষণার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। এর আগে চলতি মাসে তারা স্ট্রাইকার নামের একটি মার্কিন চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার হামলার দায়ও স্বীকার করে, যেখানে বিপুল পরিমাণ তথ্য ধ্বংস ও চুরির দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সাইবার সংঘাতের একটি অংশ, যেখানে রাষ্ট্র-সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার ও প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

