জীবনের চূড়ান্ত অর্থ খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারস্থ হয়ে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ব্রিটিশ লেখক রিখ সামাদ্দার। তার ডায়েরির সাম্প্রতিক অংশে তিনি তুলে ধরেছেন, কীভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ ও দার্শনিক চিন্তার সমন্বয়ে তৈরি একটি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা—‘হোলি জিপিটি’—তার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বরং তাকে নিজের সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে।
লেখক জানান, ২০০১ সালে প্রথমবার ইন্টারনেটে “জীবনের অর্থ কী” প্রশ্নটি অনুসন্ধান করেছিলেন তিনি। সেই সময় একটি রহস্যময় ওয়েবসাইটে পাওয়া ধারণা—মানব চেতনা আসলে এক ঐশ্বরিক সত্তার অংশ—তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান যুগে এসে তিনি আবার সেই প্রশ্নে ফিরে যান নতুন উত্তর খুঁজতে।
এই উদ্দেশ্যে তৈরি ‘হোলি জিপিটি’-তে বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্য, দার্শনিক মতবাদ এবং আধ্যাত্মিক চিন্তার সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত সরাসরি উত্তর না দিয়ে এটি লেখককে একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করে—অস্তিত্ব, কষ্ট, নৈতিকতা ও আত্মপরিচয় নিয়ে। এতে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করলেও লেখক স্বীকার করেন, তার উত্তরের ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করে, যেখানে তাকে বিভিন্ন দার্শনিক ধারার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
অবশেষে জীবনের অর্থ জানতে চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উত্তর দেয়—“জীবনের অর্থ হলো অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সচেতন হওয়া এবং অস্তিত্বকে উপলব্ধি করা।” এই উত্তর লেখকের মধ্যে আবেগ জাগালেও পরবর্তীতে তিনি একধরনের অস্বস্তি অনুভব করেন।
তার মতে, গভীর আধ্যাত্মিক চিন্তাকে যান্ত্রিকভাবে উপস্থাপন করার মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা রয়েছে।
বিশেষ করে, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজ উত্তর অনেক সময় সেই গভীরতাকে নষ্ট করে দেয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রিয়জনের জন্য শোকবক্তৃতা লেখার মতো আবেগঘন কাজ কখনোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেই কষ্ট ও সংগ্রামই শব্দকে অর্থবহ করে তোলে।
প্রবন্ধের শেষাংশে লেখক উল্লেখ করেন, বহু বছর পর তিনি জানতে পারেন, তার শৈশবে পাওয়া ধারণাটি আসলে প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের অংশ। পাশাপাশি, তার নিজের নামও একটি প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের নাম থেকে নেওয়া—যা মূলত কবিতার সংকলন।
এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি প্রযুক্তি ও আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন, যেখানে উত্তর পাওয়ার চেয়ে প্রশ্ন করাটাই হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
লেখকঃ রিখ সামাদ্দার
অনুবাদঃ এম.কে

