ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার কাঠামোতে দ্রুত পরিবর্তনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল (ইরান ইন্টারন্যাশনাল)-কে দেওয়া অবগত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের সাংবিধানিক সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস—আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)। চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সংবিধান অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় দ্রুত নেতৃত্ব নির্ধারণে আইআরজিসি চাপ প্রয়োগ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর ভেতরে বিভ্রান্তি ও সমন্বয় সংকট দেখা দিয়েছে। সামরিক কমান্ড চেইনের কিছু অংশে যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় নির্দেশনা আদান-প্রদান এবং অপারেশন পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
একই সঙ্গে দেশটির কিছু সামরিক কমান্ডার ও নিম্নপদস্থ সদস্য নিজ নিজ ঘাঁটিতে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত রয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলা এবং সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কাই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ (মাহমুদ আহমাদিনেজাদ) হত্যাচেষ্টার পর জীবিত আছেন বলে একই সূত্র জানিয়েছে। তাকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি হামলার সময় তার মৃত্যুর বিষয়ে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি আশঙ্কা করছে যে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা বিলম্বিত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ শুরু হতে পারে। বিশেষ করে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি ঘিরে ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্রঃ ইরান ইন্টেল
এম.কে

