24.9 C
London
August 5, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

খ্রিস্টানদের নিশানা করছে ভারতঃ নতুন বিল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে (এফসিআরএ) বড় ধরনের সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত এই আইন কার্যকর হলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল হলে সরকার নিযুক্ত একটি কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি গির্জা ও ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে একটি ‘স্পষ্ট আক্রমণ’।

প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল অনুযায়ী, কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল বা নবায়ন না হলে সরকার একটি ‘নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে সেই প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারবে। এই বিধান বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রাইলি মুর অভিযোগ করেন, বিলটি পাস হলে ভারত সরকার গির্জা ও ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা পাবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতে খ্রিস্টানদের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও এমন আইন আনা হচ্ছে, যা গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি এটিকে “খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট আক্রমণ” বলে উল্লেখ করেন এবং সতর্ক করেন, বর্তমান রূপে বিলটি পাস হলে তা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ভারতীয় রাজনৈতিক মহল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য এন. কে. প্রেমচন্দ্রন বলেন, ভারতের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিদেশি আইনপ্রণেতাদের মন্তব্য দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ।

অন্যদিকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস বলেন, তারা নিজেরাও বিলটির বিরোধিতা করেন, তবে বিদেশি কোনো দেশের পরামর্শ বা মন্তব্যের ভিত্তিতে নয়। তার ভাষায়, এটি সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের সংসদ ও সরকার।

প্রস্তাবিত বিলে আরও বলা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল হলে সরকার নিযুক্ত কর্তৃপক্ষকে ওই উপাসনালয়ের ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪৩ লাখ পাউন্ড সমপরিমাণ বিদেশি অনুদান পেয়েছে। এফসিআরএ পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে ১৪ হাজার ৪৪৯টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সক্রিয় রয়েছে। এর বাইরে ২২ হাজার ৪৯৮টি নিবন্ধন বাতিল হয়েছে এবং ১৫ হাজার ২১২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে ভারতের লোকসভায় বিলটি উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি এখনও প্রস্তাবিত আইন এবং সংসদে পাস হওয়ার আগে এতে পরিবর্তন আসতে পারে। এদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ ডেইলি রেকর্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রস্তুত চীন

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নেই দাবি পেন্টাগনের

জার্মানিতে বৈষম্যের শিকার, তবু আসতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীরা: ওইসিডি