10.1 C
London
January 18, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক রাজনীতিঃ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজোট ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোর আটটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ককে একটি “বিপজ্জনক নিম্নমুখী পপরিস্থিতির” দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েনের কারণে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। কোপেনহেগেন যদি গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে সম্মত না হয়, তাহলে জুন থেকে এই শুল্ক ২৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলেও হুমকি দেন তিনি।

ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আর্কটিক নিরাপত্তা একটি অভিন্ন ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক স্বার্থ। শুল্কের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকেও দুর্বল করবে।

এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কঠোর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইইউর তথাকথিত ‘অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা কোনো দেশ বাণিজ্যকে রাজনৈতিক চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টও কড়া অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের মধ্যে গত জুলাই স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী দল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির নেতা মানফ্রেড ভেবার স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি অব্যাহত থাকলে চুক্তিটি অনুমোদন পাবে না।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ইউরোপ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি এখন আর কেবল ডেনমার্কের বিষয় নয়; এটি ইউরোপীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন।

যুক্তরাজ্য তুলনামূলকভাবে সংযত ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ ভুল” আখ্যা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি “পরিণত ও বাস্তবসম্মত সংলাপ” প্রয়োজন।

তবে ইউরোপের অন্য নেতারা আরও কঠোর সুরে কথা বলেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ফ্রান্স কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে মাথা নত করবে না। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও স্পষ্ট করে জানান, ইউরোপ ব্ল্যাকমেইল মেনে নেবে না।

এই বিভাজিত প্রতিক্রিয়াকে কটাক্ষের সুযোগ হিসেবে নিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়াকে “আতঙ্কগ্রস্ত” বলে মন্তব্য করেন, যা পশ্চিমা জোটের ভেতরের টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।
এর মধ্যেই জার্মানি নীরবে গ্রিনল্যান্ড থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের চাপেরই প্রতিফলন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়াই নাকি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান। তার এই বক্তব্য ইউরোপে নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বারবার স্পষ্ট করেছে—গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। কিন্তু ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ও সামরিক চাপ সেই অবস্থানকে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে এই সংঘাত কেবল একটি ভূখণ্ডের প্রশ্ন নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব এবং পশ্চিমা জোটের ঐক্যের ওপর বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপ যদি সত্যিই ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহার করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্ক নতুন এক বাণিজ্য যুদ্ধের যুগে প্রবেশ করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইসরাইলকে গোলান মালভূমি ছেড়ে দিতে হবে : জাতিসংঘ

টাওয়ার হ্যামলেটে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে দ্রুতগতিতে বাড়ছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা