মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চীনের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-শক্তির জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধে চীনের উন্নতমানের হাইপারসোনিক মিসাইল মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি বিমানবাহী রণতরী ধ্বংস করতে সক্ষম হতে পারে।
তিনি বলেন, বিমানবাহী রণতরী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় প্রতীক। এই রণতরীগুলোর মাধ্যমে ওয়াশিংটন বিশ্বজুড়ে সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা কৌশলে এগুলোর ভূমিকা কেন্দ্রীয় বলে বিবেচিত।
হেগসেথের মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, চীনের নতুন প্রজন্মের হাইপারসোনিক প্রযুক্তি প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপারসোনিক অস্ত্র অত্যন্ত উচ্চগতিতে এবং জটিল গতিপথে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা প্রতিরোধ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে আরও বলা হচ্ছে, চীনের এ ধরনের প্রযুক্তি অন্য দেশগুলোর কাছেও পৌঁছাতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, ইরানও অনুরূপ প্রযুক্তি অর্জন করে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্য ও নির্ভরযোগ্য সরকারি প্রমাণ সীমিত।
প্রতিরক্ষা ও কৌশল বিষয়ক সাময়িকী পপুলার মেকানিক্স, নাইনটিন ফোরটি ফাইভ এবং দ্য ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সামরিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে হাইপারসোনিক প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের অন্যতম নির্ধারক উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশল, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্রঃ দ্য ওয়াশিংটন টাইমস
এম.কে

