চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো একটি পক্ষকে বেছে নিতে বাংলাদেশকে চাপ দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। বরং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগসহ সংবেদনশীল খাতে বাংলাদেশ যেন একাধিক উৎস থেকে সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ পায়, সেই ধরনের বিকল্প তৈরির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ইকবাল ফেরদৌসের এক প্রশ্নের জবাবে এ অবস্থানের কথা জানান দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেথানি মরিসন।
বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার নীতির প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করা হয়, ওয়াশিংটন কি বাংলাদেশকে চীন কিংবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিচ্ছে?
জবাবে মরিসন বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে দেশটির একটি বড় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশকে সব ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান বেছে নিতে বাধ্য করা যায় না।
তবে বাংলাদেশের কিছু খাত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এসব খাতকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সহযোগিতার কথা জানান মার্কিন এই কর্মকর্তা।
মরিসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য বাংলাদেশকে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা নয়। বরং এমন বিকল্প তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশ তার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একাধিক উৎস থেকে সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ পায় এবং নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে।
চীনা কোম্পানিগুলোর প্রসঙ্গও ব্রিফিংয়ে উঠে আসে। মরিসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে চীনের অনেক কোম্পানির সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে বিকল্প তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন বা ডিএফসির মতো প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অংশীদারকে কাজে লাগানোর কথা জানান মরিসন। ডিএফসি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগে অর্থায়ন করে।
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, বাংলাদেশকে চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার পরিবর্তে এমন বিকল্প সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করা, যাতে ঢাকা নিজের প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে পারে।
ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও বিকল্প বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ সামনে আনতে চাইছে—ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যে এমন অবস্থানেরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে বাংলাদেশ একই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সহযোগিতা নেবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বা সিদ্ধান্ত ওই বক্তব্যে ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগ খাতে। এসব খাতে কোন দেশ বা কোম্পানি থেকে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিজস্ব নীতি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই নেওয়ার কথা বলেছে ওয়াশিংটন।
সূত্রঃ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিং\ যমুনা টিভি
এমকে

