21.9 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’র বিপরীতে কানাডার তীরে বিশাল ঘোষণা—‘লেক অন্টারিও, আছে এবং থাকবে’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের কড়া জবাব দিয়েছে কানাডা। লেকটির কানাডীয় অংশের তীরে বিশাল একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে—‘লেক অন্টারিও। আছে এবং থাকবে।’

বিবিসির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এই সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) তিনি সাইনবোর্ডটির সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

ডগ ফোর্ড বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার বহু আগে থেকেই এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও। এমনকি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার বহু পরেও এর নাম লেক অন্টারিওই থাকবে। কানাডা ও অন্টারিও নিজেদের স্বকীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে মাথা নত করেনি বলেই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, ট্রাম্প কিংবা অন্য যে কেউকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে যে হ্রদটির নাম লেক অন্টারিও ছিল এবং চিরকাল তাই থাকবে।

লেকটির নাম নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে।

কানাডার পণ্যের ওপর ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং এর জবাবে কানাডার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। ফলে বাণিজ্যিক বিরোধের পাশাপাশি একটি ঐতিহাসিক ভৌগোলিক নাম নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওও প্রকাশ করেছেন তিনি। একটি ভিডিওতে তাকে ‘লেক অন্টারিও’ লেখা একটি সাইনবোর্ড লাথি মেরে ফেলে দিয়ে সেখানে ‘ওয়েলকাম টু লেক আমেরিকা’ লেখা বোর্ড বসাতে দেখা যায়।

অন্য একটি ভিডিওতে ট্রাম্পের মতো চুল এবং হাতে রাইফেল নিয়ে একদল রাজহাঁসকে হ্রদের উপকূল পাহারা দিতে দেখা যায়। এসব ভিডিও নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যেকোনো কিছুকে তার নিজস্ব সঠিক নামেই ডাকা উচিত। তার মতে, এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও এবং এটি লেক অন্টারিওই থাকবে।

উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত গ্রেট লেকসের মধ্যে লেক অন্টারিও সবচেয়ে ছোট। হ্রদটি কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে দুই দেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় হ্রদটির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, অন্টারিওসহ গ্রেট লেকসের চারটি প্রধান হ্রদের নামই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত শব্দ থেকে এসেছে। ফলে নামগুলোর সঙ্গে শুধু ভৌগোলিক পরিচয় নয়, ইতিহাস ও আদিবাসী সংস্কৃতিরও সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একক দেশ যৌথ জলসীমার নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন করতে পারে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও মেক্সিকো তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল।

লেক অন্টারিও নিয়ে সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান তাই শুধু একটি হ্রদের নাম নিয়ে বিতর্ক নয়; এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্যিক বিরোধ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ উদ্যোগের বিপরীতে কানাডার তীরে স্থাপিত বিশাল সাইনবোর্ড যেন সরাসরি জানিয়ে দিল—কানাডার কাছে এর নাম বদলানোর প্রশ্নই নেই।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

পাঁচটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের সফল হামলার বিষয়ে ইসরায়েল নীরবঃ দ্য টেলিগ্রাফ

ফ্লোটিলা থেকে আলাদা হয়ে গাজার দিকে এগুচ্ছে আমাদের জাহাজঃ শহিদুল আলম

যে কারণে ফ্রান্সের ওয়াইন প্রস্তুতকারকরা অ্যালকোহলমুক্ত ওয়াইন নিয়ে এলো