মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে “বাস্তব চুক্তি” মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান সম্পূর্ণভাবে চুক্তি না মানা পর্যন্ত মার্কিন জাহাজ, বিমান ও সামরিক সদস্যরা তাদের অবস্থানে বহাল থাকবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে— বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে, যা অতীতের সব সংঘর্ষকে ছাড়িয়ে যাবে। তার দাবি, অনেক আগেই একটি সমঝোতা হয়েছিল, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার শর্ত এবং হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের অপেক্ষায় আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় কোনো ধরনের হুমকি শনাক্ত হয়নি। তারা জানিয়েছে, ইরান থেকে কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা মানববিহীন আকাশযান ছোড়া হয়নি।
এদিকে, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালীতে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১১টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে ইরান, গ্রিস ও চীনের জাহাজ রয়েছে।
তবে এই অগ্রগতি খুবই সীমিত, কারণ প্রণালীর দুই পাশে এখনো প্রায় ১,৪০০ জাহাজ নোঙর করে আছে। তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে ওমান ও গ্রিসের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ গালফ অঞ্চল থেকে যাত্রার অনুমতি পেয়েছে, যদিও এর আগে ইরান প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছিল।
একটি অজ্ঞাত জাহাজও পশ্চিম থেকে পূর্বে অতিক্রম করেছে, যা “ছায়া বহর”-এর অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গালফ অঞ্চলে অবস্থানরত অনেক জাহাজের ক্ষেত্রে ভুয়া অবস্থান দেখানো এবং সংকেত বিঘ্নের ঘটনাও বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত প্রণালীটি বন্ধ থাকলেও, ইরান তার মিত্র দেশগুলোর জন্য কিছু ছাড় দিয়েছে। চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানের জাহাজ সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের কিছু জাহাজ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে চলাচলের সুযোগ পেয়েছে।
পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে ফিলিপাইন পতাকাবাহী জাহাজগুলোকেও এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা এখনো কাটেনি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

