8.3 C
London
February 26, 2024
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে ১০টি অমীমাংসিত রহস্য

ডার্ক ম্যাটার ওয়েব

১৯৩০ এর দশকে ফ্রিতযযুইকি নামক একজন সুইস জ্যোতির্বিজ্ঞানী পর্যবেক্ষণ করলেন, দূরের ছায়াপথ বা গালাক্সিগুলো পরস্পরের সঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত গতিতে ঘুরছে। তিনি দাবি করলেন ’ডার্কম্যাটার’ নামক এক ধরনের অদেখা পদার্থ সম্ভবত এদের ওপর প্রভাব ফেলছে। আর এই কারণেই এমনটা ঘটার কথা।

পরবর্তীকালে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, সেই ’ডার্কম্যাটার’ নামট পদার্থটি পুরো মহাবিশ্বজুড়ে রয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সাধারণ পদার্থ দিয়ে যেসব জিনিস গঠিত (যেমন: মানুষ, পৃথিবী, নক্ষত্র) সেগুলোর চেয়ে ছয় গুণ বেশি পরিমাণে বিরাজ করছে এই ’ডার্কম্যাটার’। অর্থাৎ, মহাবিশ্বের ৮৫ শতাংশই হচ্ছে এই ‘বস্তুটি’।

ফলে বিজ্ঞানীরা দিনরাত ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন এর সম্পর্কে জানতে। এখানে ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কিত ১০টি অমীমাংসিত রহস্য রয়েছে।


১. ডার্ক ম্যাটার কি?

সবচেয়ে জটিল ব্যাপার হল, গবেষকেরা এখনও নিশ্চিত না যে ডার্ক ম্যাটার জিনিসটা আসলে কি!

কিছু বিজ্ঞানী অনুমান করেছিলেন- মহাবিশ্বের এই অনুপস্থিত ভর ছোট তারা এবং কৃষ্ণ গহ্বর দিয়ে তৈরি। আর এই অনুমান নিয়ে সন্দেহ ছিল অনেকেরই।

ডার্ক ম্যাটারের বর্তমান শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগী হল একধরনের হাইপোথেটিকাল কণা যার নাম ‘উইম্প’। যার আচরণ নিউট্রনের মতো এবং প্রটোন থেকে ১০ থেকে ১০০ গুণ ভারী। তবুও এই অনুমানে আরও অনেক প্রশ্ন উঠে এসেছে, যেমন:


২. আমরা কি ডার্ক ম্যাটার সনাক্ত করতে পারি?

যদি ডার্ক ম্যাটারের উৎপত্তি উইম্প থেকে হয় তাহলে এটা আমাদের আসেপাশেই আছে অদৃশ্য অবস্থায়। তাহলে আমরা কেন এটিকে খুঁজে পাইনি?

এরা (ডার্ক ম্যাটার) সাধারণ পদার্থের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়ায় অংশ নেয়না। কিন্তু এরা মহাকাশের সবখানে ঘোরাফেরা করে। তাই মিথষ্ক্রিয়ার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। গবেষকেরা মাটির নিচের অসংখ্য কণার ওপর পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন বিষয়টা বোঝার। সেখানে তারা ইন্টেরফেরিং বিকিরণ থেকে রক্ষা পায়, যা এক রকম ডার্ক ম্যাটার পারটিকেল সংঘর্ষের কপি।


৩. তাহলে সমস্যা কোথায়?

কয়েক দশকের সন্ধানের পরও ডার্ক ম্যাটার বিষয়ে একটিও নির্ভরযোগ্য আবিষ্কার সম্ভব হয়নি। ২০২০ সালের শুরুর দিকে, চাইনিসপ্যান্দাক্স পরীক্ষা সর্বশেষ উইম্প অসনাক্ত রিপোর্ট করেছে।

ইউনিভারসিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার প্রোফেসর হাই-বোইউ এই প্রসঙ্গে লাইভ সাইন্সকে বলেছেন, ধারণা করা হয় ডার্ক ম্যাটার কণাগুলো উইম্পের তুলনায় অনেক ক্ষুদ্র, অথবা সেগুলোর বৈশিষ্ট্য খুব বেশি বোধগম্য না।


৪. ডার্ক ম্যাটার কি একাধিক কণা দিয়ে গঠিত?

সাধারণ পদার্থ প্রোটন, ইলেকট্রন এবং আরও কিছু কণা যেমন নিউত্রিন, মিউওন ইত্যাদি দিয়ে গঠিত। তাই কিছু গবেষক মনে করলেন, মহাবিশ্বের ৮৫ শতাংশ নিয়ে গঠিত ডার্ক ম্যাটারের গঠনও এগুলোর মতোই জটিল হতে পারে।

এক সাক্ষাৎকারে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী আন্দ্রে কাট্‌য বলেছেন, ধরে নেয়ার কোনো কারণ নাই যে, সব ডার্ক ম্যাটার মাত্র একটি কণা দিয়ে গঠিত।

তার মতে ডার্ক প্রোটন এবং ডার্ক ইলেকট্রন মিলে ডার্ক অ্যাটম গঠন করতে পারে। এগুলো দৃশ্যমান দুনিয়ার বস্তুগুলোর মতোই চমকদায়ক হতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানীদের ল্যাবগুলো থেকে এরকম দাবি প্রতিনিয়ত এসেই চলেছে, কিন্তু পরিপূর্ণ সমাধান হচ্ছে না। আবার এগুলোর অস্তিত্বের বিষয়টিও অস্বীকার করার কোনো পথ নেই।


৫. ডার্ক ফোরসের কি অস্তিত্ব আছে?

ডার্ক ম্যাটারের অতিরিক্ত কণা থাকার পাশাপাশি সাধারণ পদার্থের মতো বল অনুভব করার সম্ভাবনা আছে। কিছু গবেষক ‘ডার্কফোটন’ এর অনুসন্ধান করেছেন, যা সাধারণ ফোটনের মতো কিন্তু শুধু ডার্ক ম্যাটার কণাদ্বারা অনুভূত। লাইভসাইন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী ইতালির পদার্থবিজ্ঞানীরা ডায়মন্ডের ভেতর ইলেকট্রন এবং এর আন্টিপারটিকেল পসিট্রন দিয়ে হিট করে পরীক্ষা নিরিক্ষা চালাচ্ছেন। যদি ডার্ক ফোটনের অস্তিত্ব থাকে তাহলে ইলেকট্রন পসিট্রন জোড়াগুলো ধ্বংস হবে এবং তৈরি হবে স্ট্রেন্জফোর্সযুক্ত কণা। এর মাধ্যমে পদারথবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী পর্বে বাকি ৫টি রহস্য সম্পর্কে আলোচনা হবে

মোবাশশেরা করিম অনন্যা (পুলিশ লাইন, বগুড়া)
সূত্র: লাইভ সায়েন্স


২৭ আগস্ট ২০২০
এনএইচটি

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ থেকে কনস্যুলার অফিস গুটিয়ে নিয়েছে রোমানিয়া

১৫ দিনের সফরে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রদূতেরা সীমালঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে