সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আতাউর রহমান বিক্রমপুরী নিজেকে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়ে সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, অতীতেও মব উসকানিদাতা হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করতে সরকারের আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, মব উসকানির সঙ্গে যুক্ত হিসেবে শিবির ও এনসিপির কিছু নেতার নাম সামনে আসা উচিত। বিশেষ করে সারজিস আলম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর নাম উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তার ভাষ্য, “ক্ষমতা থাকলে সবার ক্ষেত্রেই সমান আইন প্রয়োগ হওয়া উচিত।”
ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে আতাউর রহমান বিক্রমপুরী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতার ইঙ্গিতপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট দেখে তিনিও প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছিলেন মাত্র। তার দাবি, একই ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এক ধরনের ব্যবহার এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য ভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
একজন মন্তব্যকারী লেখেন, আগে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কথিত বাংলাদেশবিরোধী অবস্থানের বিচার হওয়া দরকার, এরপর প্রয়োজন মনে হলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে নোমান সিদ্দিকী নামের এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, অন্যের অন্যায় দেখে নিজেকে প্রবাহিত করা উচিত নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মানুষ হিসেবে সঠিক-ভুল বোঝার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন অন্যের প্রভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?” একইসঙ্গে তিনি বিচারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
আবুল হোসেন দিপু নামের আরেকজন মন্তব্যকারী, দেশে এখন “অভিভাবক” এসেছে, তাই ভবিষ্যতে রাস্তায় না আসার পরামর্শ দেন।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো জানা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

