ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং এর প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এক বছরের জন্য বেসরকারি বাড়িভাড়া স্থির রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে ব্রিটিশ সরকার। প্রস্তাবটি নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা যায়, ইংল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়ির মালিকদের ভাড়া বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পরিবারগুলোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মর্টগেজসহ অন্যান্য আবাসন ব্যয়ের চাপ কমানো।
বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সরাসরি পরিবারের মাসিক বাজেটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে খাদ্য, পরিবহন এবং বাসস্থানের খরচও বেড়ে যায়, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করে।
দেশটির অর্থমন্ত্রী এর আগে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের ধারণার প্রতি অনাগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতের কারণে সরকার নতুনভাবে বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে গড় বেসরকারি বাড়িভাড়া বর্তমানে মাসে এক হাজার তিনশ সাতাত্তর পাউন্ড। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গত ১২ মাসে এই ভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা আগের মাসের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা কম।
ইংল্যান্ডে গড় মাসিক ভাড়া সবচেয়ে বেশি, যা এক হাজার চারশ চৌত্রিশ পাউন্ড। তুলনায় ওয়েলসে এটি আটশ ত্রিশ পাউন্ড, স্কটল্যান্ডে এক হাজার বাইশ পাউন্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে আটশ আশি পাউন্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, ভাড়া বৃদ্ধিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর হলে স্বল্পমেয়াদে ভাড়াটিয়ারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে বাড়ির মালিকদের একটি অংশ এতে আপত্তি তুলতে পারেন, কারণ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও ঋণের চাপও একই সঙ্গে বাড়ছে।
এদিকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এম.কে

