18.2 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বাতিল

নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানীতে ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে অংশ নিতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছালেও ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 
বৈঠকটি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ পরামর্শ সভা হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ জানিয়েছিল, বৈঠকে প্রায় ২৩ জন জ্যেষ্ঠ নেতার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচির মধ্যে শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা, দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক ও আইনি বিষয় ছিল।
তবে বৈঠক বাতিলের বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কারণ জানানো হয়নি। নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও সিদ্ধান্তটির কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না। বৈঠকটি পরে অন্য কোনো তারিখে হতে পারে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে বৈঠকটি কলকাতায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। পরে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার কারণে সেটি নয়াদিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা দিল্লিতে এসে শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পর থেকে সেখানে অবস্থান করছেন। তার সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়টি গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের কার্যক্রমের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারতেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লির ফোরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণের কথা থাকা একটি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছিল। সে সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দিল্লি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
এর আগে ৫ আগস্ট একই ভেন্যুতে শেখ হাসিনার একটি সরাসরি গণমাধ্যম সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠান নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। পরে ভারত সরকার অনুষ্ঠানটির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এবং জানায়, এটি একটি বেসরকারি উদ্যোগ ছিল।
ভারত সরকারের অবস্থান নিয়েও এর আগে সংসদীয় নথিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় ভূখণ্ড রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। জুলাইয়ে ভারতের সংসদে দেওয়া সরকারের জবাবে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এ অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত বৈঠক বাতিল হওয়ায় শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ এবং দলীয় নেতৃত্বের পরবর্তী করণীয় নিয়ে পরিকল্পিত সরাসরি আলোচনা আপাতত হচ্ছে না। বৈঠকটি ভবিষ্যতে পুনর্নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ \  রয়টার্স
এম.কে

আরো পড়ুন

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছেঃ জয়সোয়াল

বিশ্বের ১৯৫ টি দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশ সরকারের ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি

নিউজ ডেস্ক