সাম্প্রতিক সময়ে দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে অনেকে ধারণা করছেন যে যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। তবে বাস্তবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব আইন বা দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন এসেছে মূলত যুক্তরাজ্যে প্রবেশ যাচাইয়ের পদ্ধতিতে, যা ২০২৬ সালকে সামনে রেখে আরও কঠোর ও প্রমাণভিত্তিক হয়ে উঠছে।
যুক্তরাজ্য সরকার Electronic Travel Authorisation (ETA) ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ভ্রমণের আগেই যাত্রী যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। এই ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি যাচাইয়ের বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য পরিবহন সংস্থার ওপর। যদিও ব্রিটিশ নাগরিকরা ETA থেকে অব্যাহতি পান, সেই অব্যাহতি তখনই কার্যকর হচ্ছে যখন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্টের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা যায়। কেবল বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করলে অনেক ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের সিস্টেম ব্রিটিশ নাগরিকত্ব শনাক্ত করতে পারছে না।
এর ফলে আইনগতভাবে ব্রিটিশ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বহু দ্বৈত নাগরিক বোর্ডিং বাতিল, ভ্রমণ বিলম্ব কিংবা শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট মিস করার মতো সমস্যায় পড়ছেন। এখানে নাগরিকত্ব বাতিল বা হারানোর কোনো প্রশ্ন নেই; সমস্যা তৈরি হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে। নতুন সীমান্ত ব্যবস্থায় আগের মতো বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার বিবেচনায় বিষয়টি সমাধান হওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে ভ্রমণের আগেই, কেবল প্রি-ভেরিফায়েড ডকুমেন্টের ভিত্তিতে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের সময় বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা বিদেশি পাসপোর্টে সংযুক্ত Certificate of Entitlement to the Right of Abode থাকা কার্যত অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ETA কোনো বিকল্প নয়, কারণ ব্রিটিশ নাগরিকরা ETA-এর জন্য আবেদনযোগ্য নন। ফলে যারা দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করতেন, তাদের জন্য সেই অভ্যাস এখন বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে যারা ব্রিটিশ নন তারা অবশ্যই ETA বা ই-ভিসা নিতে হবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য।
এই কঠোর সীমান্ত যাচাই ব্যবস্থার প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়িক ভ্রমণেও। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়টি আলাদাভাবে নজরে রাখে না। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মী ভুল পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করতে গিয়ে আটকে পড়লে ব্যবসায়িক মিটিং, প্রজেক্ট বাস্তবায়ন এবং ক্লায়েন্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানের ট্রাভেল পলিসিতে এখন শুধু ভিসা নয়, কোন পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করতে হবে—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি।
ইমিগ্রেশন বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সীমান্ত ব্যবস্থা দ্রুতই পুরোপুরি প্রমাণভিত্তিক ও ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় নাগরিকত্বের আইনি অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই অধিকার গ্রহণযোগ্য উপায়ে প্রমাণ করার ডকুমেন্ট থাকা এখন সমানভাবে জরুরি। দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য বার্তা স্পষ্ট—নাগরিকত্ব আছে ধরে নেওয়াই আর যথেষ্ট নয়, তা সঠিকভাবে প্রমাণ করাও এখন বাধ্যতামূলক।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এম.কে

