TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

নারী ও নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত পোস্টঃ ‘হ্যাকড অ্যাকাউন্ট’ দাবি করলেও চাপে জামায়াতে ইসলামী

নারী নেতৃত্ব ও সামাজিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ড. শফিকুর রহমানের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে নারীদের নেতৃত্বে আসার বিরোধিতা করা হয় এবং আধুনিকতার নামে নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করাকে নৈতিক অবক্ষয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

 

পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের মধ্যেই সেটি মুছে ফেলা হয়।
ওই পোস্টে দাবি করা হয়, ইসলামে নারীদের নেতৃত্ব অনুমোদিত নয় এবং জামায়াতে ইসলামীতে নারী নেতৃত্বের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বলা হয়, আধুনিকতার নামে নারীদের কর্মক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হলে তারা শোষণ, নিরাপত্তাহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অশ্লীলতা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং নারীদের পণ্য হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতাকে ‘নৈতিক পতনের লক্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তব্যে আরও বলা হয়, এসবের সঙ্গে আপস করা হবে না, তা যতই আধুনিক বা ফ্যাশনেবল হোক না কেন।

 

বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণা টিম একটি পৃথক বিবৃতিতে জানায়, ড. শফিকুর রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল এবং ওই বক্তব্য তার নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট পোস্ট করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নানাভাবে অপপ্রচার চালালেও দলটি জনগণ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ও নীতিনিষ্ঠ প্রচারণায় অটল থাকবে।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি বড় একটি অংশের সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যদি একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা নিজের অনলাইন অ্যাকাউন্টই সুরক্ষিত রাখতে না পারেন, তাহলে তিনি কীভাবে একটি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন? কেউ কেউ একে দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক অযোগ্যতার প্রতীক বলেও মন্তব্য করছেন।

আরেকটি বড় অংশের মানুষ হ্যাকিংয়ের দাবিকেই অবিশ্বাস করছেন। তাদের মতে, নারী বিষয়ে এই বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘদিনের আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমালোচকদের দাবি, দলটি ঐতিহাসিকভাবেই নারীর অধিকার ও নেতৃত্বের প্রশ্নে রক্ষণশীল ও অবমূল্যায়নমূলক অবস্থান নিয়ে এসেছে, ফলে হ্যাকিংয়ের ব্যাখ্যাকে তারা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না।

একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাস, গর্ব ও জাতীয় চেতনার মূল ভিত্তি। তাদের মতে, যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা কখনো জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারে না। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে জামায়াতের রাজনৈতিক বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে, নারী ও নেতৃত্ব নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী আবারও জনসমালোচনার মুখে পড়েছে। ‘হ্যাকড অ্যাকাউন্ট’ ব্যাখ্যা দিলেও দলটির আদর্শিক অবস্থান, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে, যা আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

ওসমান হাদিকে সোমবার সিঙ্গাপুর নেওয়া হবেঃ প্রেস উইং

৭ রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনারসহ ১২ কর্মকর্তাকে দেশে ফেরার নির্দেশ

সব অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে মঙ্গলবারঃ আইএসপিআর