19.1 C
London
April 27, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

পেঁয়াজু দিয়ে মাস্টারশেফ ইউকেতে বাংলাদেশের সাবিনার ঝড়, প্রথম হিট জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ রান্নার অনুষ্ঠান ‘মাস্টারশেফ ইউকে’-এর ২২তম আসরে উজ্জ্বল সাফল্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা খান। ঢাকায় বেড়ে ওঠা এই প্রতিভাবান রাঁধুনি প্রথম হিটে অংশ নিয়ে অন্য পাঁচ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন।
বিবিসি ওয়ান ও বিবিসি আইপ্লেয়ারে সম্প্রচারিত এবারের আসরে হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করে প্রথম হিটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান ছয়জন প্রতিযোগী। তাদের মধ্যেই ছিলেন লন্ডনে বসবাসকারী পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক সাবিনা খান।
প্রথম পর্বেই নিজের অনন্য রান্না ও উপস্থাপনায় বিচারকদের মন জয় করেন তিনি। তার পরিবেশিত খাবারের নাম ছিল ‘সালাদ অব হারমোনি’।
এই পদে ছিল বিটের রঙে রাঙানো ক্রিম বয়েলড ডিম, কুড়মুড়ে পেঁয়াজু, মুড়ি, গাজর, বিট, মটর, মুচমুচে করে ভাজা মুরগির চামড়া, রসুন এবং ওপরে সরিষার তেলের সসের বিশেষ স্পর্শ।
বিশ্বখ্যাত আইরিশ শেফ অ্যানা হফ সাবিনার রান্নার প্রশংসা করে বলেন, খাবারটির নাম একদম যথার্থ। প্রতিটি উপাদানের আলাদা স্বাদ যেমন স্পষ্ট, তেমনি সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অসাধারণ ভারসাম্য। পুরো ব্যাপারটাই সত্যিই দারুণ সুরেলা।
মাস্টারশেফ ইউকের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জনপ্রিয় ব্রিটিশ খাদ্য সমালোচক জে রেইনও সাবিনার রান্না চেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটা দুর্দান্ত, সবকিছু একদম ঠিকঠাক।”
এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবিনা। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে জে রেইনকে অনুসরণ করে আসছেন। একদিন তিনি তার রান্না খাবেন, সেটাই ছিল স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাওয়ায় এখনো তিনি যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না।
সাবিনার জন্ম বাংলাদেশে। তিনি বড় হয়েছেন ঢাকার গুলশানে। ছোটবেলা থেকেই ঘরের খাবারের টেবিলেই নানা ধরনের স্বাদের সঙ্গে পরিচয়। তাদের বাড়িতে বাইরের খাবার খাওয়া খুব একটা উৎসাহিত করা হতো না। তবে তার মা মুনাওয়ার ঘরেই তৈরি করতেন মাছের ঝোল, পিৎজা, চায়নিজ ব্ল্যাক বিন চিকেনসহ নানা রকম খাবার।
বার্গার, কাবাব, বিরিয়ানি, কেক, কুকিজ, ডোনাট ও নানা পেস্ট্রিও মায়ের হাতেই তৈরি হতো। স্কুল থেকে ফিরে টেবিলে সাজানো সেই বৈচিত্র্যময় খাবারই সাবিনার রান্নার প্রতি ভালোবাসার শুরু।
পরবর্তীতে নিজের দুই সন্তানকেও একই অভিজ্ঞতা দিতে চেয়েছেন তিনি। নিজের রান্নাঘরকে তিনি বলেন ‘ফ্লেভার ল্যাব’, যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন স্বাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে।
রান্নার বাইরে সাবিনা দৌড়ানো, শরীরচর্চা, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং গান শুনতে ভালোবাসেন। তার বিশ্বাস, ভালো খাবারের সঙ্গে ভালো গান থাকলে পুরো অভিজ্ঞতাই বদলে যায়।
১৬ বছর আগে একবার মাস্টারশেফে আবেদন করেছিলেন সাবিনা। কিন্তু তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। পরে সংসার ও সন্তানদের বড় করার ব্যস্ততায় সেই স্বপ্ন চাপা পড়ে যায়। তবে এবার তার দুই ছেলে তাকে আবার আবেদন করতে উৎসাহ দেয়।
এবার সেই স্বপ্নই বাস্তব রূপ নিচ্ছে। আট সপ্তাহে মোট আটটি হিট থেকে ৪৮ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে মাত্র আটজন উঠবেন কোয়ার্টার ফাইনালে, সেখান থেকে চারজন যাবেন সেমিফাইনালে।
প্রথম হিটে জয়ী হয়ে সাবিনা ইতোমধ্যেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন একটাই—বাংলাদেশি স্বাদ ও দেশি হেঁশেলের ঐতিহ্য সঙ্গে নিয়ে তিনি কি মাস্টারশেফ ইউকের চূড়ান্ত শিরোপা জিততে পারবেন?
তার উত্তর মিলবে আগামী জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে।
সূত্রঃ ক্রাম্ব নিউজ
এম.কে

আরো পড়ুন

জেরেমি কর্বিনের নেতৃত্বে একজোট হয়েছেন প্রো-প্যালেস্টাইনপন্থী সাংসদরা

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম ফাইজার ও অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা

অমিত শাহ’র বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের