ব্রিটিশ উচ্চশিক্ষার দীর্ঘদিনের আভিজাত্যনির্ভর কাঠামোতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে পূর্ব লন্ডনের ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। পোস্টকোড, পারিবারিক প্রভাব বা ব্যয়বহুল ফি—এসব যে সাফল্যের পূর্বশর্ত নয়, তা প্রমাণ করে দিচ্ছে নিউহ্যাম ও টাওয়ার হ্যামলেটসের সাধারণ পরিবারের সন্তানরা।
শতবর্ষী ইটন ও ওয়েস্টমিনিস্টারের মতো নামী প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাব ভেঙে দিয়ে তারা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে ‘মেধা’ শব্দটির মানে।
দীর্ঘকাল ধরে ব্রিটেনের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত ধনী ও অভিজাত পরিবারের শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল।
কিন্তু সেই ধারায় বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে রাষ্ট্রীয় অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলগুলো। গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, লন্ডনের স্ট্র্যাটফোর্ডে অবস্থিত লন্ডন একাডেমি অফ এক্সিলেন্স থেকে এক বছরে রেকর্ড ৬২ জন শিক্ষার্থী অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে ভর্তির অফার পেয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি অক্সফোর্ড এবং ৩৯টি কেমব্রিজ থেকে। এই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যামের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫৮ শতাংশই বাংলাদেশি ঐতিহ্যের অধিকারী। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই কমিউনিটির নতুন প্রজন্ম শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য দেখাচ্ছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, অক্সব্রিজ থেকে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। এদের অনেকেই পরিবারের প্রথম সদস্য, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এটি ব্রিটেনে এক ধরনের ‘মেধার নতুন বিপ্লব’।
যেখানে ওয়েস্টমিনিস্টার স্কুলের মতো আভিজাত্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ফি দিয়েও ৭৫টি অক্সব্রিজ অফার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, সেখানে কোনো ফি ছাড়াই লন্ডন একাডেমি অফ এক্সিলেন্স প্রায় সেই সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শুধু তাই নয়, টাওয়ার হ্যামলেটসের স্কুলগুলো থেকে এখন ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় ‘রাসেল গ্রুপ’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। এটি পূর্ব লন্ডনকে কেবল আবাসিক এলাকা নয়, বরং একটি নতুন মেধাভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়ে এক ঐতিহাসিক মোড় দেখা গেছে। অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজকে পেছনে ফেলে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (এলএসই) এখন ব্রিটেনের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উঠে এসেছে। পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখন এই প্রতিষ্ঠানের দিকেই ঝুঁকছে। লন্ডন একাডেমি অফ এক্সিলেন্সের নির্বাহী প্রধান শিক্ষক অ্যালেক্স ক্রসম্যান এই অর্জনকে আখ্যা দিয়েছেন ‘সুপ্ত মেধার জাগরণ’ হিসেবে—যা ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

