22.3 C
London
September 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ফকল্যান্ডসের তেল প্রকল্প বন্ধে যুক্তরাজ্যকে ২ সপ্তাহের আল্টিমেটাম আর্জেন্টিনার

ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রসীমায় তেল উত্তোলন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ আরও তীব্র করেছে আর্জেন্টিনা। দ্বীপপুঞ্জের কাছে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করতে যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বন্ধ না হলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বুয়েনস আয়ার্স।

মিলেইর কার্যালয় জানিয়েছে, সি লায়ন প্রকল্প বন্ধ না হলে জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের আওতায় আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনজীবীদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনাল জার্মানির হামবুর্গভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক আদালত।

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে উত্তর ফকল্যান্ড অববাহিকায় অবস্থিত সি লায়ন তেলক্ষেত্র। ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে এই তেলক্ষেত্রের অবস্থান। প্রকল্পটির ৬৫ শতাংশ মালিকানা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান নাভিটাস পেট্রোলিয়ামের এবং বাকি ৩৫ শতাংশ ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার এক্সপ্লোরেশনের।

প্রকল্পটির উন্নয়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে। নাভিটাসের ঘোষণামতে, সি লায়নের প্রথম ধাপে ১১টি সমুদ্রতল কূপ স্থাপন করা হবে এবং ভাসমান উৎপাদন, সংরক্ষণ ও তেল খালাসকারী জাহাজের সঙ্গে সেগুলো যুক্ত করা হবে। প্রথম ধাপে উৎপাদন শুরু হলে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম তেল ২০২৮ সালের প্রথমার্ধে পাওয়ার কথা।

রকহপার ও নাভিটাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ফকল্যান্ডস সরকারের দেওয়া বৈধ পেট্রোলিয়াম লাইসেন্সের ভিত্তিতে কাজ করছে এবং যুক্তরাজ্য সরকারও প্রকল্পটিকে সমর্থন করছে। রকহপার সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল, সি লায়ন প্রকল্পের লাইসেন্স ফকল্যান্ডস সরকারের কাছ থেকে আইনসম্মতভাবে দেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পটি যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ ও চলমান সমর্থন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অবস্থান হলো, ফকল্যান্ডসের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধপূর্ণ এলাকায় আর্জেন্টিনার সম্মতি ছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করা বৈধ নয়। বুয়েনস আয়ার্সের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।

ফকল্যান্ডসের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু দশকের। বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে রয়েছে এবং যুক্তরাজ্য এটিকে ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে বিবেচনা করে। লন্ডনের অবস্থান হলো, দ্বীপবাসীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের অধিকার রয়েছে।

সি লায়ন প্রকল্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা অবশ্য শুধু সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে বড় ধরনের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে। রকহপার জানিয়েছে, সি লায়ন এলাকায় আনুমানিক ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে এবং প্রকল্পের উন্নয়ন ফকল্যান্ডসের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে ফকল্যান্ডসের তেল ও গ্যাস কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সেপ্টেম্বরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্জেন্টিনা সি লায়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং প্রকল্পটির লাইসেন্সকে অবৈধ বলে মনে করছে।

এখন মিলেই সরকারের দুই সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক সালিশি প্রক্রিয়ায় গেলে ফকল্যান্ডসের দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক আইনি পর্যায়ে আলোচনায় আসবে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে দুই দেশের পুরোনো বিরোধের নতুন উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরছে।

সূত্রঃ এপি\রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে স্টারমারকে চাপ দেবেন মাখোঁ

ব্যক্তিগত জমি ৬০ বিঘার বেশি হলে নিয়ে যাবে সরকার!

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ধসে পড়ছে, ক্যান্সার রোগীরা মৃত্যুঝুঁকিতে