TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বরিশাল আদালতে বিচারকের সামনেই তাণ্ডবঃ জামিন ঘিরে আইনজীবীদের বিশৃঙ্খলা

বরিশালের অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতেই এজলাস কক্ষে হট্টগোল, ভাঙচুর ও হুমকি-ধামকির ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বিচার কার্যক্রম চলাকালে কয়েকজন আইনজীবী উত্তেজিত অবস্থায় আদালত কক্ষে ঢুকে বিচারকের দিকে আঙুল তুলে তর্কে জড়ান এবং একপর্যায়ে চেয়ার-টেবিল উল্টে দেন।

 

ঘটনার সময় একটি মামলার শুনানি করছিলেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ। কোর্ট রেজিস্ট্রার ও কোর্ট পুলিশের সদস্যরাও কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা আদালতে থাকা অন্য আইনজীবীদের বের করে দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিকেও চিৎকার করে ধমক দেন।

এই ঘটনার জেরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে বুধবার দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভাঙচুরের অভিযোগে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বুধবারও বরিশাল জেলা জজ আদালত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা এজলাসে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, জামিন অযোগ্য মামলায় অর্থের বিনিময়ে জামিন দেওয়া হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রেফতারের আগে সাদিকুর রহমান লিংকন গণমাধ্যমকে বলেন, উচ্চ আদালত বা দায়রা জজ যেখানে জামিন দেননি, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে জামিন বিবেচনা করা হচ্ছিল—এতে ক্ষোভ থেকেই তারা প্রতিবাদ করেছেন। তবে আদালতে বিশৃঙ্খলা না করে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, পূর্বে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হলেও তা শোনা হয়নি।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা ঘটনাটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আদালতের কোনো আদেশে অসন্তুষ্ট হলে আপিলসহ আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুস্পষ্ট পথ রয়েছে। কিন্তু বিচারকের সামনেই এজলাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা আদালত অবমাননার শামিল এবং তা বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে।

ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী কামরুল আহসান বলেন, কোনো আদেশে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে জেলা জজ, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ধাপে ধাপে আপিলের সুযোগ রয়েছে। বিচারকের ওপর হামলাসদৃশ আচরণ বিচার বিভাগের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ ঘটনাটিকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হতে পারে। পাশাপাশি কেউ আহত হয়ে থাকলে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগেও মামলা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এজলাসে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। দলীয় রাজনীতির প্রভাব আইন পেশায় প্রভাব ফেললে তা দীর্ঘমেয়াদে আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বরিশালের এই ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মত দিয়েছেন

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

আরো পড়ুন

সিলেটে ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব পালনে যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসীরা দেশে

চীনের বিকল্প বগুড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে অভাবনীয় অগ্রগতি

বাংলাদেশের সর্বকালের সর্ববৃহৎ জানাজায় বেগম খালেদা জিয়ার অন্তিম বিদায়