13.5 C
London
June 18, 2024
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের গুদামে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কতোটা নিরাপদ?


অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে লেবাবনের রাজধানী বৈরুতে ঘটে যায় ভয়াবহ বিপর্যয়। এ ঘটনার পর বাংলাদেশেও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়মানুযায়ী ব্যবহার ও গুদামজাত হচ্ছে কি না, তাতে তদারকি বাড়িয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে চকবাজরের চুড়হাট্টায় রাসায়নিকের গুদাম থেকে সৃষ্ট ২০১৯ সালের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর জনগণের মনে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে লেবাননের দৃষ্টান্ত।  

বুধবার (১২ আগস্ট) বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক নিরাপদভাবে আমদানি ও গুদামজাত হচ্ছে কীনা তা তদারকি করার জন্য কর্মকর্তা রয়েছেন মাত্র পাঁচ জন। আর আমদানি এই রাসায়নিক গুদামজাত করার জন্য দেশের বন্দরগুলোতে কোন নিরাপদ ব্যবস্থা নেই বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

এছাড়াও ছাড়পত্র পাওয়া আমদানির বাইরে স্থানীয়ভাবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উৎপাদন করা হচ্ছে কীনা, কিংবা সেগুলো নিরাপদভাবে বিক্রি, পরিবহণ কিংবা গুদামজাত করা হচ্ছে কীনা, সে সম্পর্কে কর্মকর্তারা কোন তথ্য দিতে পারেনি।

এদিকে ১২ আগস্ট প্রথম আলোর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিস্ফোরক তৈরির এ উপাদানটির আমদানির পরিমাণ খুবই কম।

কাস্টমসের সূত্র দিয়ে বলা হয়, গত অর্থবছর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এ পণ্যটি আমদানি হয়েছে ৩৯৪ মেট্রিক টন। আর গত ছয় বছরে ১ হাজার ৭৩৮ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানির হিসাব পাওয়া গেছে। তাছাড়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, বিস্ফোরকসহ অতি বিপজ্জনক পণ্য বন্দর দিয়ে আমদানি হলেও তা রাখার সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের পর্ষদ সদস্য মো. জাফর আলমের বরাত দিয়ে বলা হয়, উচ্চমাত্রার দাহ্য, বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ বন্দর দিয়ে আমদানি হলেও বন্দরের গুদামে রাখা হয় না। জাহাজ থেকে নামানোর পরপরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে তা খালাস নিতে হয়। এ ধরনের পণ্য ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনো ঝুঁকি তৈরি না হয় সে জন্যই এই ব্যবস্থা।

এ বিস্ফোরক ক্যামিকেলটি আমদানির ক্ষেত্রে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয় বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে তা পরিবহণ ও সংরক্ষণের বিষয়টি তদারকি করার জন্য যথেষ্ট জনবল নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিস্ফোরক আইনের অধীনে ২০১৮ সালে সরকার অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিধিমালা প্রণয়ন করে। এই বিধিমালার আওতায় লাইসেন্স ছাড়া কেউ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানি, খালাস, পরিবহন, ব্যবহার করার সুযোগ নেই। গুদামে রাখার জন্যও কঠোর নিয়মাবলী ও শর্ত রয়েছে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে জানা যাচ্ছে, ঢাকায় দুজন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা এবং রাজশাহীতে একজন করে বিস্ফোরক পরিদর্শক কাজ করছেন। এসব জায়গায় দু-একজন করে সহকারী পরিদর্শকও রয়েছেন।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান মো. মঞ্জুরুল হাফিজের বরাত দিয়ে বলা হয়, এ ধরনের রাসায়নিক আমদানির জন্য এই মুহূর্তে তিনটি বেসরকারি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এরা মূলত চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উপাদান তৈরি করে। সরকারি পর্যায়ে শুধু মধ্যপাড়া গ্র্যানাইট মাইনিং কোম্পানির অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানির অনুমতি রয়েছে। এরা খনি-গর্ভে বিস্ফোরণের বারুদ হিসেবে এগুলো ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, সার এবং খনিতে বিস্ফোরক হিসেবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের ব্যবহার বহুদিন ধরেই চলছে। কিন্তু এটা কিভাবে নিরাপদ রাখা হবে, কতদিন ধরে রাখা যাবে তা নিয়ে কঠোর নিয়মনীতি রয়েছে। এসব গুদামের স্থানও অনেক সময় গোপন রাখা হয়, কারণ ১৯৭০-এর দশক থেকে ঘরে তৈরি বোমা বা হাতবোমা তৈরির উপাদান হিসেবে এটা ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৫ আগস্ট লেবাননের রাজধানী বৈরুতের নৌ-বন্দরের কাছে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট গুদামে ভয়ানক বিস্ফোরণে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে অন্তত চারজন ছিলেন বাংলাদেশি। পরে বিপুল আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে বৈরুত সরকার। বৈরুতের এ বিপর্যয়ের পর বিশ্বজুড়ে এই দাহ্য পদার্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


১২ আগস্ট ২০২০
এনএইচটি

আরো পড়ুন

আকবর গ্রেফতারের ভুয়া খবর প্রচার, জনমনে বিভ্রান্তি

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটে ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব পালনে যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসীরা দেশে

ইতালিতে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, ৮০০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আয়