ভারত তার সবচেয়ে স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল সিলিগুড়ি করিডোরে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডোর দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলসংযোগ। অঞ্চলটির নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ভারত এখন তিনটি নতুন ফরোয়ার্ড সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে, যা পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি চীন ও পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে আপাত পরিবর্তন, চীনা অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দিল্লিকে সিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বাধ্য করেছে। ভারতের কাছে এই করিডোর কেবল একটি স্থলপথ নয়—বরং উত্তর–পূর্বাঞ্চলের অস্তিত্ব সুরক্ষায় অপরিহার্য জীবনরেখা।
ভারতীয় সেনাবাহিনী নতুন তিন ঘাঁটিতে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ইউনিট, নজরদারি প্রযুক্তি এবং বিশেষ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো যুক্ত করছে। উদ্দেশ্য হলো—যেকোনো আকস্মিক সামরিক চাপ, সীমান্ত অস্থিতিশীলতা কিংবা প্রতিবেশী দেশের নীতিগত পরিবর্তনে করিডোরটি যাতে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ওপর ভারতের নির্ভরতা এই অঞ্চলটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে; তাই বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দুই দিক থেকেই প্রতিরক্ষা বাড়ানো জরুরি।
চীন গত এক দশকে সিকিম-ভুটান সীমান্ত এবং ডোকলাম অঞ্চলে কার্যত সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিলিগুড়ি করিডোর—বা “চিকেনস নেক”—বারবার চীনের নজরে এসেছে। ভারতের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, এই সংকীর্ণ করিডোর ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাতে ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হতে পারে। তাই সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসন ঠেকাতে নতুন ঘাঁটিগুলোকে প্রতিরোধক ভূমিকা রাখার মতো করে সাজানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও ভারতের পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। ঢাকার নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সেটি সিলিগুড়ি করিডোরকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। এই বিবেচনায় দিল্লি সীমান্তে “দ্বৈত প্রতিরক্ষা অবস্থান”—চীন ও পাকিস্তানকে প্রতিরোধের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আসতে পারে এমন সম্ভাব্য ঝুঁকিও সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি—জোরদার করছে।
ভারতের বর্তমান উদ্যোগকে বিশ্লেষকরা পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা স্থাপনার সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন হিসেবে দেখছেন। তিনটি নতুন ঘাঁটি চালু হলে সিলিগুড়ি করিডোর কেবল নিরাপদই হবে না, বরং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারতের সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে
এম.কে

