6.2 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সাদা চুলের উপদেষ্টার ষড়যন্ত্র ও প্যারালাল গভর্নমেন্টের অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে একটি সক্রিয় “প্যারালাল গভর্নমেন্ট” বা ছায়া-শাসন কাঠামো রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তার দাবি, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দুইজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা অঘোষিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করছেন।

 

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ‘পালস টু পলিটিক্স’ ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সায়ের বলেন, এই দুই উপদেষ্টার একজনকে তিনি “সাদা চুলের উপদেষ্টা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে তার অভিযোগ।
সায়েরের মতে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যকারিতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বাস্তবে তার ওপর আরেকটি অঘোষিত স্তর তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ঊর্ধ্বে আর কারও অবস্থান থাকার কথা নয়। অথচ বাস্তবে ‘খোদা বক্স’ নামের একজন ব্যক্তিকে সামনে এনে কার্যত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ওপর একটি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে।

খোদা বক্সকে কেন সামনে আনা হয়েছে, তার দায়িত্ব কী এবং তিনি কোন কর্তৃত্বে কাজ করছেন—এসব বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নেই বলে অভিযোগ করেন সায়ের। তার মতে, এই অস্পষ্টতা সরকারের ভেতরে একটি হায়ারার্কি বা স্তরবিন্যাস তৈরি করেছে, যা মূলত ছায়া-শাসন কাঠামোরই অংশ।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অবৈধ সীমান্ত পারাপার ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতের একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক। সায়ের দাবি করেন, ২০১৮ সালের দিকে একজন ইউটিউবারকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতের সীমান্ত দিয়ে পার করে দেওয়া হয়। পরে তিনি থাইল্যান্ড হয়ে ফ্রান্সে পৌঁছান।
এই যাত্রাপথে ভ্রমণ নথি ও পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা ছাড়া এমন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সায়ের আরও বলেন, এই নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য দেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনা। কিছু নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ধরনে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা বাংলাদেশকে একটি চরমপন্থী আদর্শিক পথে ঠেলে দিতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি একটি বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “সাদা চুলের” ওই উপদেষ্টা একসময় নেত্র নিউজের এডিটর-ইন-চিফ তাসনিম খলিলকে বলেছিলেন যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ একমাত্র পথ হতে পারে ‘তালেবানাইজেশন’। তখন এই বক্তব্য অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে সায়ের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী একটি দেশের সঙ্গে একতরফা রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ফলে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের সঙ্গে সেই দেশের একটি বড় দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই দূরত্ব ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত—এর প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর গভীরভাবে পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এই অভিযোগগুলো নিয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও ভারত–বাংলাদেশ কাজ করবেঃ ড. ইউনূস

সব অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোনে বিজয় কি-বোর্ড থাকতে হবে: বিটিআরসি

সিলেট ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পের অনুভূত