9.4 C
London
February 11, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকশীর্ষ খবর

বাধ্যতামূলক যৌনশিক্ষার বিপক্ষে ইতালি

ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই যৌনশিক্ষা বাধ্যতামূলক৷ হাতে গোণা যে কয়টি দেশ যৌনশিক্ষাকে পাঠ্যক্রম ভুক্ত করার বিপক্ষে ইতালি তাদের অন্যতম৷ ৪৮ বছর ধরে চেষ্টা চলছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি৷

ইতালিতে যৌনশিক্ষাকে স্কুলের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার প্রথম জোরালো পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছিল ১৯৭৫ সালে৷ তারপর থেকে গত ২০২১ সালের আগ পর্যন্ত আরো অন্তত ১৪ বার একই দাবি তোলা হয়েছে৷ কিন্তু প্রতিবারই সরকার সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বা আবেদনকারীদের অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে৷ ২০২১ সালে স্টেফানিয়া আসারি ইটালির ইতিহাসে ১৬তম বারের মতো এ দাবি রেখেছিলেন তখনকার সরকারের কাছে৷ কিন্তু ফলাফল একই, অর্থাৎ সরকারের সেই এক জবাব- কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সারা দেশে যৌনশিক্ষা বাধ্যতামূলক করা সম্ভব নয়৷

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে শুধু যে ইতালিতেই যৌনশিক্ষা বাধ্যতামূলক নয় তা কিন্তু নয়৷ আরও আটটি দেশে যৌনশিক্ষা এখনো পাঠক্রমের বাইরে৷ সেই দেশগুলো হলো বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং স্পেন।

 

 

 

 

 

জার্মানিসহ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশেই স্কুল পর্যায়ে যৌনশিক্ষা বাধ্যতামূলক৷ যেসব দেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌনতার ভালো-মন্দ জানতে পারছে না, সেসব দেশে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণের জন্য প্রচুর সময় কাটাচ্ছে৷

মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল সায়েন্স বিভাগের সাইকোথেরাপিস্ট এবং গবেষক আলবার্তো পেল্লাই জানান ইতালিতে শিশু-কিশোরদের এই প্রবণতা বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে৷ তার কাছে অবশ্য শিশু-কিশোরদের যৌনতা সম্পর্কে ধারণা নিতে ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকে পড়া বড় কোনো সমস্যা নয়৷ বড় সমস্যা হলো, ইন্টারনেটে যৌনতা সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত সঠিক তথ্য পাওয়া খুব কঠিন৷

বেশিরভাগ ওয়েবসাইটে একেবারে মিথ্যা বা অর্ধসত্য পরিবেশন করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে যৌনতাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা খুবই হিংস্র এবং অমানবিক৷ এমন অবৈজ্ঞানিক জ্ঞান নিয়ে যৌনকর্ম করার কারণে অনেক শিশু-কিশোরের খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেক্সুয়েলি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি), অর্থাৎ ক্লামিডিয়া এবং সিফিলিসের মতো যৌনবাহিত রোগ হয়ে যায়৷ ইতালিতে পাঠক্রমে যৌনশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আঞ্চলিক সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয়াও হয়েছে৷

 

 

 

 

কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশে যৌনশিক্ষা বাধ্যতামূলক না করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কখনো আসবে না৷ তারা মনে করেন, যৌনশিক্ষার বিষয়টিকে পরিবার এবং বাবা-মায়দের ওপর ছেড়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়৷

ইটালির সেক্সোলজি সেন্টার (সিআইটেস)-এর প্রেসিডেন্ট মারিয়া ক্রিস্টিনা ফ্লোরিনি মনে করেন, স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের সারা বছর ধরে যৌনশিক্ষা দেয়া, কারণ, কোন শিক্ষার্থী কেমন তা তারা খুব ভালো জানেন৷

আরো পড়ুন

বাংলাদেশকে করোনার টিকার জন্য কত দাম দিতে হবে?

নিউজ ডেস্ক

সিরিয়ায় সংঘাতে আইএস বন্দিশিবির ভাঙনের আশঙ্কা, শামিমা বেগমের মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক

সংক্রমণ কমতে থাকায় সচল হচ্ছে ইউরোপ