12.2 C
London
April 14, 2024
TV3 BANGLA
ফিচারশীর্ষ খবর

বিজয় দিবস ২০২০

১৯৭১ সালের এই দিনে ঠিক বিকেল চারটা ৩১ মিনিটে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মাথা নিচু করে আত্মসমর্পন করে পাকিস্তান বাহিনী। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ঘোষণা দিলেন বিজয়ের।

 

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয়ের সেই শুভক্ষণের ৪৯তম বার্ষিকী। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সরকারি কর্মকর্তারা।

 

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ঢাকায় ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। তবে করোনা মহামারির জন্য এবারের সব আয়োজন কিছুটা নিয়ন্ত্রিত। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

 

বিজয় দিবস সরকারি ছুটির দিন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় করা হয়েছে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করার কথা রয়েছে। সংবাদপত্র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে, বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

 

মহান বিজয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দলের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যে বিষবৃক্ষ, ডালপালা বিস্তার করেছে, সেই বিষবৃক্ষ আমরা সমূলে উৎপাটন করবো।

 

হেফাজতসহ ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুও পাকিস্তানিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তারা কি চেয়েছিল, তা জানতে। তাদের (ধর্মীয় সংগঠন) সঙ্গে বৈঠকটা করা হয়েছে, কারণ আমরা জানতে চাই, তারা কী চায়। আমাদের যে শপথ, আমাদের যে আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, স্বাধীনতার আদর্শ, এ প্রশ্নে আমরা কোনো আপোষ করবো না। সেটাও আমরা তাদের জানিয়ে দিতে পারি। তা নাহলে বৈঠক কেন?

 

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বিজয় পেয়েছি, তবে আমাদের মুক্তি মেলেনি। আমরা মুক্তির জন্য সংগ্রাম করবো।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে মৌলিক স্বাধীনতাগুলো হরণ করা হয়েছে, মানুষের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকে বিজয় দিবসে আমরা শপথ নিয়েছি গণতন্ত্রমুক্ত করবার জন্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবার জন্য, দেশের মানুষকে মুক্তি করবার জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবো।

 

তিনি আরও বলেন, ইনশাল্লাহ অবশ্যই আমরা বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো। বিজয় পেয়েছি, তবে মুক্তি আমাদের মেলেনি। আমরা মুক্তির জন্যই সংগ্রাম করবো।

 

বিজয়ের এই দিনে জাতিগতভাবে সব সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রত্যয় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। বুধবার সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি।

 

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, জাতিগতভাবে আমরা এখনো সব সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারিনি। তাই বিজয়ের এই দিনে সব সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করতে আমাদের নতুন করে প্রত্যয় নিতে হবে। যতদিন পর্যন্ত এ দেশ থেকে সব সাম্প্রদায়িক, প্রতিক্রিয়াশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তি নিশ্চিহ্ন করা না যায়, ততদিন আমাদের সেই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

 

১৬ ডিসেম্বর ২০২০
এনএইচ

 

আরো পড়ুন

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০

করোনায় বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় ৬৩ জনের মৃত্যু

ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের নির্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ব্র্যাভারম্যানকে আহ্বান!