যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে পাশের আসনে বসা এক পুরুষ যাত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হস্তমৈথুনের অভিযোগ তুলেছেন ২৫ বছর বয়সী এক নারী। তার দাবি, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিমানকর্মীদের জানানো হলেও তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং অবতরণের সময় তাকে আবার ওই ব্যক্তির পাশের আসনে বসতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনাটি নিউইয়র্কের রচেস্টার থেকে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া একটি ফ্লাইটে ঘটে বলে ওই নারী জানিয়েছেন। তার দাবি, পাশে বসা আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী ওই পুরুষ যাত্রীকে তিনি হস্তমৈথুন করতে দেখেন।
নারীটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সঙ্গে সঙ্গে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কর্মীদের বিষয়টি জানান। এরপর তাকে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু অবতরণের প্রস্তুতির সময় তাকে নিজের আসনে ফিরে যেতে বলা হলে তিনি ওই ব্যক্তির পাশে বসতে অস্বস্তি বোধ করছেন বলে একাধিকবার জানান।
তার দাবি, কর্মীরা তাকে জানান বিমানে অন্য কোনো আসন খালি নেই। ফলে অভিযোগ করা সত্ত্বেও তাকে আবার সেই ব্যক্তির পাশেই বসতে হয়।
ওই নারী বলেন, তাকে জানানো হয়েছিল অবতরণের সময় মাত্র কয়েক মিনিট ওই ব্যক্তির পাশে থাকতে হবে। কিন্তু বিমানের পেছনের দিকে আসন হওয়ায় অবতরণের পর অন্য যাত্রীদের বেরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় তাকে আরও দীর্ঘ সময় সেখানে বসে থাকতে হয়।
তার অভিযোগ, পুরো ঘটনার পরও অভিযুক্ত পুরুষ যাত্রী কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি না হয়েই বিমান থেকে বেরিয়ে যান।
বিমান থেকে নামার পর ওই নারী গেটের এক কর্মীর কাছেও অভিযোগ করেন। তার দাবি, সেখানে তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়—এ বিষয়ে ওই কর্মী কী করতে পারেন।
পরে তিনি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে অভিযোগ করেন এবং এফবিআইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন।
ওই নারীর দাবি, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স পরে ই-মেইলের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত ভাষা তার কাছে আপত্তিকর ও দোষারোপমূলক মনে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে ঘটনাটিকে শুধু এমন একটি আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা তাকে “উদ্বিগ্ন” করেছে—এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন।
তিনি বলেন, “আমি নিজেই সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছি এবং সাহায্য চেয়েছি।” তার আরও অভিযোগ, যারা তাকে সাহায্য করার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তাদের কারণেই তিনি নিজেকে “আটকে পড়া” অবস্থায় অনুভব করেছেন।
ওই নারী জানান, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স তাকে ১০০ ডলারের একটি ফ্লাইট ক্রেডিট দিয়েছে। তবে তার মূল ভ্রমণ খরচ ছিল প্রায় ৪০০ ডলার।
ঘটনাটি নিয়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স তদন্ত শুরু করেছে। এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধি পিপল ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, তারা অভিযোগটি খতিয়ে দেখছেন। তবে তদন্ত চলায় এ মুহূর্তে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দ্য সানও মন্তব্য চেয়েছে। তবে প্রতিবেদনে প্রকাশের সময় পর্যন্ত এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ওই নারীর অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে; অভিযুক্ত পুরুষ যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্রঃ দ্য সান
এমকে

