যুক্তরাজ্যের করদাতাদের অর্থ দিয়ে বিশ্বের মানুষের জন্য কল্যাণমূলক ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকে দলের নেতা জিয়া ইউসুফ। বিদেশি নাগরিকদের সরকারি ভাতা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, ব্রিটিশ জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে।
স্যোশাল মিডিয়াতে দেওয়া জিয়া ইউসুফের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থ ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের পিছনে নষ্ট হচ্ছে। বরিস ওয়েভের কারণে পঙ্গপালের মতো মানুষ এখানে প্রবেশ করেছে আর আজ ব্রিটেনের এই দুরাবস্থা। গত বছরে প্রায় ৯ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়েছে বেনিফিট প্রদান করতে গিয়ে তাও শুধু ইউনিভার্সেল ক্রেডিট। প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন মানুষ বরিস ওয়েভের সময় প্রবেশ করেছে। তারা এখন আইএলআর চায় সারাজীবন বসে খাওয়ার জন্য। এটা ব্রিটিশ মানুষদের সাথে অন্যায় আচরণ যা শুরু করেছিল কনজার্ভেটিভ ও বর্তমানে চালিয়ে যাচ্ছে লেবার সরকার।
আমরা চাই বিদেশী শ্রমিক আসুক, কাজ করুন, আনন্দ করুক কিন্তু আমাদের বোঝা যেন তারা না হয়।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে এক নিবন্ধে মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধীনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সেই বসবাসের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হবে না। তবে রিফর্ম ইউকে সরকার গঠন করলে যুক্তরাজ্যে তাদের সরকারি ভাতা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ব্রিটিশ জনগণ আর বিশ্বের জন্য খাদ্যব্যাংক চালানোর খরচ বহন করবে না।” এখানে ‘বিশ্বের খাদ্যব্যাংক’ বলতে তিনি বিদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যের সরকারি কল্যাণমূলক ভাতা ও সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাকে বোঝান।
রিফর্ম ইউকে দলের অভিবাসন ও কল্যাণনীতি অনুযায়ী, দলটি ক্ষমতায় গেলে বিদেশি নাগরিকদের জন্য অধিকাংশ সরকারি ভাতা বন্ধ করতে চায়। এর আওতায় ইউনিভার্সেল ক্রেডিট , আবাসন ভাতা, পেনশন ক্রেডিট, জব সিকার এলাউয়েন্স, চাইল্ড বেনিফিট, চাইল্ড কেয়ার বেনিফিট এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত কিছু ভাতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। রিফর্ম ইউকের বক্তব্য, এসব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ নাগরিকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম আইটিভি নিউজ জানায়, রিফর্ম ইউকে বিদেশি নাগরিকদের অধিকাংশ সরকারি ভাতা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই প্রস্তাব ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, এমনকি যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রেও। তবে এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনি ও আন্তর্জাতিক চুক্তির সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে।
রিফর্ম ইউকে দাবি করেছে, তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারের বছরে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে। দলটির হিসাব অনুযায়ী, পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার পঞ্চম বছরে এই সাশ্রয় অর্জন সম্ভব এবং এর ফলে প্রতি পরিবারে গড়ে প্রায় ৭০০ পাউন্ডের সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হতে পারে।
দলটি আরও বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধীনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সেই মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার প্রস্তাব তাদের নেই। তবে তাদের সরকারি ভাতা পাওয়ার অধিকার পরিবর্তন করতে চায় তারা। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইউরোপীয় নাগরিকদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বসবাসরত কিছু ব্রিটিশ নাগরিকের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
অভিবাসন ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে জিয়া ইউসুফ তার স্যোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন, ২০১০ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড। তার যুক্তি, এই অর্থ সামরিক খাত বা হাসপাতালের মতো জনসেবামূলক খাতে ব্যবহার করা যেত।
এর আগে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজও বলেছিলেন, সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা মূলত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত। দলটি স্থায়ী বসবাসের অনুমতির বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং অভিবাসীদের জন্য আরও কঠোর শর্ত চালুর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে।
তবে বিদেশি নাগরিকদের সব ধরনের ভাতা বন্ধ করার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতি, সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী, কাজ করা এবং কর প্রদানকারী বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এমকে

