ব্রিটেনে আগামী বুধবার ২০২৬ সালের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী জন হিলি। জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে পরিবারগুলোর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা, ব্যাংকের ওপর কর বৃদ্ধি এবং বিদেশি অনলাইন বিক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের মতো পদক্ষেপ বাজেটে আসতে পারে বলে জানিয়েছে ডেইলি মিরর।
নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটেনে মানুষের মধ্যে ‘আশা’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আগামী বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পার্লামেন্টে বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্রিটেনের চারটি বৃহত্তম ব্যাংক সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড মুনাফা করেছে। ব্যাংক খাত থেকে রাজস্ব বাড়াতে অর্থমন্ত্রী অতিরিক্ত করের হার বর্তমান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। ব্যাংকের ঋণের ওপর আরোপিত লেভি বাড়ানোর বিকল্পও রয়েছে।
ব্যাংক খাতে বেশি কর আরোপের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত মুনাফার ওপর সাময়িক কর আরোপ করে এক বিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব সংগ্রহের সুপারিশ করেছে।
সরকার ইতিমধ্যে গৃহস্থালি বিদ্যুতের বিলে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্যে নামিয়েছে। এতে একটি সাধারণ পরিবারের বছরে প্রায় ৪৫ পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে। আগামী বছরের শুরুতে জ্বালানি বিল বাড়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে আয় ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে যোগ্য প্রায় ৬০ লাখ পরিবার ওয়াম হোম ডিসকাউন্ট প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি বিলে ১৫০ পাউন্ড ছাড় পায়। এই সহায়তার পরিমাণ আরও ১০০ পাউন্ড বাড়ানোর একটি প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াট্টা ফানবুলে বলেছেন, মানুষকে আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে।
বাজেটে আয়কর, ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স বা ভ্যাটের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি এসব কর না বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার তা বজায় রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অ্যামাজন ও ইবের মতো অনলাইন বাজারের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা বিদেশি বিক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে ৯০ হাজার পাউন্ডের বেশি বিক্রি করা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোর ওপর দেওয়া হতে পারে, বিক্রেতা যে দেশেই থাকুক না কেন।
দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ডেইলি মিরর জানিয়েছে, এ উদ্যোগে সরকারের কোষাগারে এক বিলিয়ন পাউন্ড আসতে পারে। এই অর্থ দিয়ে হাই স্ট্রিটের দোকানগুলোর ব্যবসায়িক কর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় গাড়িচালকদের ব্যয় কমাতে জ্বালানি তেলের শুল্ক অপরিবর্তিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। সাবেক অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস জানুয়ারিতে প্রতি লিটারে ৩ পেনি এবং মার্চে আরও ২ পেনি শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সড়ক পরিবহন খাতের সংগঠন রোড হোলেজ অ্যাসোসিয়েশন পণ্যবাহী ভারী যান, কোচ ও ভ্যানচালকদের মতো জ্বালানিনির্ভর পেশাজীবীদের জন্য প্রতি লিটারে ১৫ পেনি ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
দুই মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যের বাড়ির ওপর বছরে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে এই কর কার্যকরের কথা ছিল। বাড়ির মূল্যসীমা কমিয়ে দেড় মিলিয়ন পাউন্ড করার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হয়েছিল, যাতে আরও প্রায় দুই লাখ বাড়ি করের আওতায় আসত। তবে লেবার পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্যের ধারণা, পরিকল্পনাটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আসন্ন বাজেটে এটি অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে।
বাড়ি বা শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত মুনাফার ওপর আরোপিত ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন অর্থমন্ত্রী জন হিলি। মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য আগে কর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে ধনী ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে চলে গেলে বা সম্পদ বিক্রি পিছিয়ে দিলে সরকারের রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

