17.8 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের রেলস্টেশনের বিখ্যাত বিড়াল জর্জকে নিয়ে বইঃ বিশ্বজুড়ে মুগ্ধ ভক্তরা

ব্রিটেনের একটি রেলস্টেশনের বাসিন্দা বিড়াল জর্জ এবার বইয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের মন জয় করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় এই বিড়ালকে নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে একটি জীবনীমূলক বই। ইতোমধ্যে থাইল্যান্ড, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বইটি নিয়ে পাঠকদের আগ্রহের খবর পাওয়া গেছে।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের স্টোরব্রিজ জংশন রেলস্টেশনের এই বিড়ালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার। গত বছর তার নামে একটি ট্রেনের নামকরণ করা হয়। স্টোরব্রিজ টাউন ও স্টোরব্রিজ জংশনের মধ্যে চলাচলকারী ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের ওই ট্রেনটি জর্জের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাকে নিয়ে একটি গানও লেখা হয়েছে।

জর্জের জীবন ও মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বইটি লিখেছেন রেলওয়ের পরিষেবার মান ও ধারাবাহিক উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক সিমোন কার্টার। জর্জকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন এবং তার জীবন সম্পর্কে বই প্রকাশের অনুরোধ পাওয়ার পর তিনি এই উদ্যোগ নেন বলে জানান।

বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে, জর্জ কীভাবে রেলস্টেশনকে নিজের বাসস্থান হিসেবে বেছে নেয়। তার আগের মালিকেরা স্পেনে চলে যাওয়ার পর স্টেশনটিই হয়ে ওঠে তার ঠিকানা। পাশাপাশি বিড়ালটির দুষ্টুমি, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং তাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্প্রীতির গল্পও স্থান পেয়েছে বইটিতে।

সিমোন কার্টার জানান, বইটি পাঠকদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জর্জের ভক্তরা তাদের বিড়ালের সঙ্গে বইটির ছবি পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ তাদের পোষা বিড়ালকে বইটি পড়ে শোনানোর ছবিও পাঠিয়েছেন। তার মতে, জর্জকে ঘিরে এই আগ্রহ এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে জর্জের জনপ্রিয়তা শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন স্টোরব্রিজ জংশন স্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রীরাও তাকে দেখতে আগ্রহী। রেলওয়ের গ্রাহকসেবা কর্মকর্তা ম্যাথিউ কার্টরাইট বলেন, যাত্রীরা স্টেশনে এসে প্রায়ই জানতে চান জর্জ কোথায় আছে। ব্যস্ত দিনের মধ্যে বিড়ালটি তাদের মুখে হাসি ফোটায়।

এক যাত্রী জানান, ভাগ্য ভালো হলে জর্জকে ইঁদুর বা পাখি ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়। আরেক যাত্রীর ভাষায়, স্টেশনের আশপাশের প্রায় সবাই জর্জকে চেনেন। সে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি বিড়াল, যে চারপাশের জগৎকে নিজের মতো করে পর্যবেক্ষণ করে।

বর্তমানে জর্জের বয়স ১২ বছর। তার দেখাশোনা করেন দত্তক নেওয়া মালিক ইয়ান। তবে ইয়ান রেলওয়ের চাকরি থেকে অবসরের পরিকল্পনা করছেন। ফলে ভবিষ্যতে জর্জেরও স্টেশনজীবন থেকে অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সিমোন কার্টারের মতে, জর্জ এখনো প্রাণবন্ত এবং নিজের স্বভাবসুলভ আচরণ দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করছে। এমন এক সময়ে, যখন পৃথিবী সবসময় মানুষের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না, তখন জর্জের গল্প মানুষের মধ্যে দয়া, আন্তরিকতা ও ইতিবাচক অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এমকে

আরো পড়ুন

মাতালদের কাছে মদ বিক্রি বন্ধের নির্দেশ যুক্তরাজ্যে

নিউজ ডেস্ক

টিউলিপকে নিয়ে উত্তপ্ত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট, উঠলো ড. ইউনূসের নামও

যুক্তরাজ্যে শিশুদের খেলার মাঠ থেকে মিলল ১৭৫টি যুদ্ধবোমা