ব্রিটেনে মানবপাচারের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এক আলবেনীয় নাগরিককে ইউকে থেকে বহিষ্কারের পর তার আশ্রয় ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত দাবিকে ‘স্পষ্টত ভিত্তিহীন’ হিসেবে প্রত্যয়িত করার হোম অফিসের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে কোর্ট অব আপিল।
মামলাটি হলো এমবি বনাম হোম সেক্রেটারি। ২০২৬ সালের রায়ে কোর্ট অব আপিল জানায়, ন্যাশনালিটি, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম অ্যাক্ট ২০০২-এর সেকশন ৯৪ অনুযায়ী এমবির দাবি ‘ক্লিয়ারলি আনফাউন্ডেড’ হিসেবে প্রত্যয়িত করার ক্ষেত্রে হোম অফিস আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিল।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, এমবির আলবেনিয়ায় প্রায় ১১ হাজার পাউন্ডের জুয়া-ঋণ ছিল। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি বিদেশে কাজের একটি বিজ্ঞাপনে সাড়া দেন।
এরপর তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হয় এবং একটি ক্যানাবিস ফার্মে জোর করে কাজ করানো হয় বলে মামলায় উঠে এসেছে। তাকে বলা হয়েছিল, ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাকে হত্যা করা হবে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অস্ত্র ও ম্যাশেটি নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি যে বাড়িতে এমবি ছিলেন সেখানে ঢোকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে মাদক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এমবি দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে এক বছর চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এমবি মানবপাচারের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আলবেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যে ফেরার জন্য সুরক্ষা ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত দাবি করেন।
কিন্তু হোম অফিস তার দাবিকে ‘ক্লিয়ারলি আনফাউন্ডেড’, অর্থাৎ স্পষ্টত ভিত্তিহীন হিসেবে প্রত্যয়িত করে। বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলেও কোর্ট অব আপিল হোম অফিসের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কেউ অতীতে মানবপাচারের শিকার হয়েছেন, শুধু এই কারণেই তার নতুন আশ্রয় দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
কোনো ব্যক্তি নিজ দেশে ফিরে গেলে আবার মানবপাচার বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলে দাবি করলে সেই ঝুঁকির বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
ফ্রি মুভমেন্ট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বহু বছর আগে ঘটে যাওয়া মানবপাচারের পর ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন দাবি প্রমাণ করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে।
এই রায়ের ফলে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয় ও সুরক্ষা দাবির ক্ষেত্রে অতীতের ঘটনা ছাড়াও দেশে ফেরত গেলে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই রায় সব মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি বা সব আশ্রয় আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই ফল হবে—এমন কথা আদালত বলেনি। প্রতিটি মামলার তথ্য, প্রমাণ ও আইনি পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।
ফ্রি মুভমেন্ট জানিয়েছে, তাদের প্রকাশিত তথ্য সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং কোনো ব্যক্তির জন্য আইনি পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এমকে

