ব্রিটেনে অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১০ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, আগে থেকে কার্যকর থাকা নিয়ম পেছনের তারিখ থেকে পরিবর্তনের পক্ষে তিনি নন। তার এই অবস্থান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪২ লাখ অভিবাসী এসেছেন। তাদের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি ভিসায় এসে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। এই অভিবাসন প্রবাহকে কেন্দ্র করেই স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর করার প্রস্তাব সামনে এসেছে।
সাদিক খান বলেন, শাবানা মাহমুদ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করছেন এবং পরামর্শ গ্রহণ করছেন—এটি সঠিক পদক্ষেপ। তিনি নিজেও প্রস্তাবের সম্ভাব্য সুযোগ ও উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়ায় মতামত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি আগে থেকে কার্যকর থাকা নিয়ম পেছনের তারিখ থেকে পরিবর্তনের পক্ষে নই।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা, দেশে আসা ব্যক্তিদের অর্থনীতিতে অবদান নিশ্চিত করা এবং মানবিক অভিবাসন নীতি বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সাদিক খান আশা প্রকাশ করেন, পরামর্শ প্রক্রিয়ায় পাওয়া মতামত বিবেচনায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন একটি নীতি ঘোষণা করবেন, যার প্রতি সংশ্লিষ্টরা সমর্থন জানাতে পারবেন।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ মনে করেন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতির যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১০ বছর করা প্রয়োজন। তার দাবি, কম আয়ের বা বেকার অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার পর তাদের সহায়তায় সরকারের প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। তবে এ ব্যয়ের বিষয়ে আরও বেশি অঙ্কের অনুমানও সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে, ২০২০-এর দশকের শুরুর দিকে দীর্ঘমেয়াদি ভিসায় বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে এসেছেন। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন নীতির প্রয়োজন হয়েছে।
বার্নহ্যাম বলেন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া কোনো সুবিধা হিসেবে না দেখে অর্জন করতে হয়—এমন অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লেবার পার্টির ১০০ জনের বেশি সংসদ সদস্য, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, স্বাস্থ্য খাতের সংস্থা এবং বামপন্থী সমর্থকদের একটি অংশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করছেন। কমিউনিটিজবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও শাবানা মাহমুদের পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য অন্তত ১০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। আর কেয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব না পাওয়া পর্যন্ত কিছু অভিবাসীর সরকারি ভাতা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
তবে এসব বিষয় এখনো প্রস্তাব ও নীতিগত আলোচনার অংশ। চূড়ান্ত নীতিতে কী পরিবর্তন আসবে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

