ব্রিটেনের গুরুতর ও সহিংস অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কিছু ব্যক্তির চার ধরনের সরকারি ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর আওতায় রয়েছে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, কর্মসংস্থান ও সহায়তা ভাতা, রাষ্ট্রীয় পেনশন এবং পেনশন ক্রেডিট। আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন পার্লামেন্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। নতুন বিধিমালার আওতায় নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে হাসপাতালে আটক থাকা ব্যক্তিদের এসব ভাতা পাওয়ার অধিকার বাতিল করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি ভাতা ব্যবস্থার একটি ফাঁক বন্ধ করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে কিছু অপরাধী হাসপাতালে আটক থাকা অবস্থায় তাদের জীবনযাপনের ব্যয় ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএসের মাধ্যমে বহন করা হলেও একই সময়ে সরকারি ভাতাও পেয়ে থাকেন।
নতুন নিয়মের মাধ্যমে এই দ্বৈত সুবিধা বন্ধ করতে চায় সরকার। তবে পরিবর্তনটি সব অপরাধী বা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নির্ধারিত অপরাধের মধ্যে রয়েছে নরহত্যা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর শারীরিক আঘাত করার উদ্দেশ্যে হামলা, ধর্ষণ, সম্মতি ছাড়া যৌন নিপীড়ন এবং শিশুদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের যৌন অপরাধ। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট আইনি আদেশের আওতায় হাসপাতালে আটক থাকতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্য আইন ১৯৮৩-এর ৩৭ ধারার অধীনে হাসপাতাল আদেশ পাওয়া ব্যক্তি এবং স্কটল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট আইনের ৫৭এ ধারার অধীনে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নতুন বিধান প্রযোজ্য হবে।
তবে হত্যার অপরাধকে এই তালিকায় রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার জন্য বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান থাকায় এ অপরাধে হাসপাতাল আদেশের সুযোগ নেই।
প্যাট ম্যাকফ্যাডেন বলেন, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হাসপাতালে আটক থাকা অবস্থায় অনির্দিষ্টকাল ধরে সরকারি ভাতা পেতে থাকবেন—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যারা কোনো অপরাধ করেননি এবং মানসিক স্বাস্থ্য আইনের অধীনে হাসপাতালে আটক রয়েছেন, তাদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে না। একইভাবে, আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের উপযুক্ত নন এমন ব্যক্তি কিংবা নতুন বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত নয় এমন অপরাধের কারণে হাসপাতালে আটক ব্যক্তিরাও এই পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন না।
ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালে আটক থাকা প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যক্তির ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বছরে আনুমানিক ২০০ জনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি বছর সরকারের কয়েক কোটি পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বিধান কার্যকর হলে তা আগে থেকেই হাসপাতালে আটক থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সময় নয়, বরং নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

