ব্রিটেনে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত সৃষ্ট নতুন বেতনভুক্ত চাকরির প্রতি পাঁচটির মধ্যে মাত্র একটি পেয়েছেন ব্রিটিশ নাগরিক। সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের হিসাবে, ওই সময়ে যুক্তরাজ্যে মোট ৩৭ লাখ অতিরিক্ত বেতনভুক্ত চাকরি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের দখলে ছিল মাত্র ৭ লাখ ৩৪ হাজার চাকরি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকেরা পেয়েছেন প্রায় ২৫ লাখ চাকরি। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকেরা পেয়েছেন ৪ লাখ ৮ হাজার চাকরি। গবেষকদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন চাকরির বড় অংশ বিদেশি কর্মীদের হাতে যাওয়ায় ব্রিটিশ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ১২টি অঞ্চলের মধ্যে নয়টিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের বেতনভুক্ত চাকরির সংখ্যা কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে স্কটল্যান্ডে, যেখানে ব্রিটিশ নাগরিকদের চাকরি কমেছে ৫৩ হাজার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের পর থেকে কর্মক্ষম বয়সীদের জন্য কর্মহীনতাজনিত সরকারি ভাতা বাবদ বার্ষিক ব্যয় প্রকৃত মূল্যে ৫ হাজার কোটি পাউন্ড বেড়েছে। গবেষকদের অভিযোগ, ধারাবাহিক সরকারগুলো দেশের কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থানের বাধা দূর করার পরিবর্তে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকসংকট মেটাতে কম দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ওপর নির্ভর করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের চাকরি বৃদ্ধির বড় অংশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে সামাজিক পরিচর্যা, আতিথেয়তা ও খুচরা বিক্রয় খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কাজের খাতে এই চাকরি বৃদ্ধির ২৯ শতাংশ হয়েছে।
গবেষকদের মতে, সরকারি অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে মাথাপিছু জীবনযাত্রার মানের চেয়ে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের দাবি, এর ফলে দেশের কর্মক্ষম মানুষের একটি বড় অংশ কাজের বাইরে থাকায় যে আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তার বোঝা করদাতাদের বহন করতে হচ্ছে; অন্যদিকে নিয়োগদাতারা বিদেশ থেকে কর্মী আনছেন।
গ্রেট ব্রিটেনে কর্মক্ষম বয়সী প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ কাজের বাইরে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের সরকারি ভাতা পাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে অভিবাসননীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সাবেক কর্ম ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী স্যার ইয়ান ডানকান স্মিথ বলেন, সরকারগুলো পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধানে কাজ করার পরিবর্তে অভিবাসন বাড়ানোর সহজ পথ বেছে নিয়েছে।
রিফর্ম ইউকের উপনেতা রিচার্ড টাইস এই তথ্যকে উন্মুক্ত সীমান্তভিত্তিক ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতার প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ দলের ছায়া মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট অফিসবিষয়ক মন্ত্রী মাইক উড লেবার সরকারের করনীতি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।
তবে সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাজ্যের কর্মশক্তির বড় অংশ এখনো ব্রিটিশ নাগরিকদের নিয়ে গঠিত। তিনি আরও বলেন, সরকার দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসনব্যবস্থা চালু করেছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং দেশের কর্মপ্রার্থীদের কাজে ফিরিয়ে আনতে কল্যাণভাতা সংস্কারে ৩৫০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

