যুক্তরাজ্যে রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলে দেওয়ার (ফ্লাই-টিপিং) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে লেবার সরকার। নতুন পদক্ষেপের আওতায় রাস্তায় একটি চিপসের প্যাকেট বা অন্য যেকোনো আবর্জনা ফেললেও সর্বোচ্চ ৭৫০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। আর অবৈধভাবে বড় পরিমাণ বর্জ্য ফেলে দিলে গুনতে হতে পারে ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা।
সরকার জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্ম থেকেই নতুন জরিমানার হার কার্যকর হবে। এটি সরকারের ‘ওয়েস্ট ক্রাইম অ্যাকশন প্ল্যান’-এর অংশ, যার লক্ষ্য বর্জ্য-সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা।
বর্তমানে লিটারিংয়ের সর্বোচ্চ জরিমানা ৫০০ পাউন্ড। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৭৫০ পাউন্ড করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ফ্লাই-টিপিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা বর্তমানের তুলনায় পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৫ হাজার পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার বলছে, ব্রিটেনের রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখতে তারা জাপানের মডেল অনুসরণ করতে চায়। জাপানে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত করা হয় এবং অধিকাংশ মানুষ নিজের আবর্জনা নিজের সঙ্গে বহন করে বাসায় নিয়ে যান।
পরিবেশমন্ত্রী এমা রেনল্ডস বলেন, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা ও রাস্তায় ময়লা ছড়িয়ে রাখা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বড় দুর্ভোগ। যারা আইন ভঙ্গ করবে, তাদের আরও কঠোর জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন, “যারা যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলছে, তাদের জন্য সরকারের বার্তা স্পষ্ট—আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব এবং এর মূল্য আপনাদেরই দিতে হবে।”
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় কাউন্সিলগুলো অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনাস্থলেই বাড়তি জরিমানা আরোপ করতে পারবে। এছাড়া আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফ্লাই-টিপারদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতাও দেওয়া হবে। অবৈধ বর্জ্য ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (LGA) নেবারহুডস কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর আরুজ শাহ বলেন, জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকরভাবে লিটারিং ও ফ্লাই-টিপিং মোকাবিলায় সহায়তা করবে। তবে তিনি আদালতের সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকা পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানান। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে আদালতের জরিমানা কাউন্সিলের তাৎক্ষণিক জরিমানার চেয়েও কম হওয়ায় অপরাধীদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
এদিকে, চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ক্লিন আপ ব্রিটেন-এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের ৭১টি কাউন্সিল গত বছর লিটারিংয়ের ঘটনায় একটিও জরিমানা করেনি। আরও ৬৭টি কাউন্সিল পুরো বছরে ১০টিরও কম জরিমানা করেছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা জন রিড বলেন, দেশের অনেক এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষ শাস্তির ভয় ছাড়াই প্রকাশ্যে ময়লা ফেলছে। তার মতে, মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনতে হলে ধরা পড়া এবং কঠোর শাস্তি পাওয়ার বাস্তব ভয় তৈরি করতে হবে।
অন্যদিকে, পরিবেশবিষয়ক সংস্থা কিপ ব্রিটেন টিডি (Keep Britain Tidy)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে পরিদর্শন করা প্রতি ১০০টি স্থানের মধ্যে মাত্র ৯টি স্থান সম্পূর্ণ আবর্জনামুক্ত ছিল। ফলে সরকারের নতুন কঠোর পদক্ষেপকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরই এর সাফল্য নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

