18.8 C
London
September 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসায় নতুন সুযোগঃ তবে বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক চুক্তি বাধ্যতামূলক

ব্রিটেনে সাময়িকভাবে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের একটি বিশেষ ব্যবস্থা হলো গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি: সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা। বিদেশে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক চুক্তি বা বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কর্মীকে ব্রিটেনে পাঠানোর প্রয়োজন হলে এই রুট ব্যবহার করা যায়। ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল চালু হওয়া গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ব্যবস্থার পাঁচটি রুটের মধ্যে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা একটি।

ফ্রি মুভমেন্টের ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ভিসা তুলনামূলকভাবে খুব কম ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৩৬ হাজার স্পনসর লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার রুটে স্পনসর লাইসেন্স রয়েছে।

এই রুটে কর্মীর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা ব্রিটেনে আসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের বা সেটেলমেন্টের পথ তৈরি করে না।

এই রুটের অন্যতম সুবিধা হলো স্পনসর প্রতিষ্ঠানকে ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ দিতে হয় না। বর্তমানে সাধারণভাবে এই চার্জের পরিমাণ প্রতি কর্মীর জন্য বছরে ১ হাজার ৩২০ পাউন্ড। এছাড়া এই রুটে সাধারণ বেতনসীমা বা নির্ধারিত ‘গোয়িং রেট’ পূরণের শর্ত নেই। তবে কর্মীকে ব্রিটেনের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি আইন অনুযায়ী বেতন দিতে হবে।

বর্তমানে আবেদনকারীর জন্য ইংরেজি ভাষার কোনো বাধ্যতামূলক শর্তও নেই। তবে সরকারের হোয়াইট পেপারে ভবিষ্যতে এই নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময় বিদেশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হবে এবং ব্রিটেনে যে পদে কাজ করবেন সেটি গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের, অর্থাৎ আরকিউএফ লেভেল ৬ বা তার বেশি দক্ষতার হতে হবে।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসার জন্য আবেদনকারীকে মোট ৪০ পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এর মধ্যে স্পনসরশিপের জন্য ২০ পয়েন্ট এবং উপযুক্ত দক্ষতার স্তরের চাকরির জন্য আরও ২০ পয়েন্ট দেওয়া হয়।

স্পনসর প্রতিষ্ঠানের কাছে এ-রেটেড গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি: সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার স্পনসর লাইসেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের একটি বিদেশি ব্যবসার সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের যোগ্য চুক্তি থাকতে হবে।

চুক্তিটির আওতায় পণ্য বা বিনিয়োগের মূল্য বছরে কমপক্ষে ১ কোটি পাউন্ড এবং মোট মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি পাউন্ড হতে হবে। চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছরের কম হলে মোট মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি পাউন্ড হতে হবে। মেয়াদ পাঁচ বছর বা তার বেশি হলে প্রতি বছর চুক্তির মূল্য কমপক্ষে ১ কোটি পাউন্ড হতে হবে। নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ বছরে মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি পাউন্ড হতে হবে।

স্পনসর লাইসেন্সের আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট চুক্তির প্রমাণ হোম অফিসে জমা দিতে হয়। লাইসেন্স অনুমোদিত হওয়ার পর ওই নির্দিষ্ট চুক্তির অধীনে কাজ করা কর্মীদের জন্যই সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপ বা সিওএস দেওয়া যায়।

অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে এই রুটে আনতে হলে নতুন চুক্তির তথ্য হোম অফিসে জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। আগের স্পনসর লাইসেন্স থাকলেই নতুন চুক্তির আওতায় সরাসরি সিওএস দেওয়া যায় না। চুক্তি অনুমোদনের আগে সিওএস দেওয়া হলে স্পনসর লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন চুক্তি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পনসরকে স্পনসর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অ্যাকাউন্টে ‘রিকোয়েস্ট চেঞ্জ অব সারকামস্ট্যান্স’ অপশন ব্যবহার করতে হয়। সেখানে চুক্তির অনুমোদন এবং সিওএস বরাদ্দ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসার আবেদনে সিওএস সঠিকভাবে তৈরি ও বরাদ্দ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্সের আবেদনের জন্য আনডিফাইন্ড সিওএস প্রয়োজন। সিওএসের চাকরির বিবরণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয় যে কর্মীকে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার রুটে স্পনসর করা হচ্ছে।

সিওএসে উপযুক্ত স্ট্যান্ডার্ড অকুপেশনাল ক্লাসিফিকেশন বা এসওসি কোড নির্বাচন করতে হয়। স্পনসর যদি কর্মীর বেতন সরাসরি না দেয়, তাহলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বেতনের ঘরে ০.০১ পাউন্ড উল্লেখ করে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট চুক্তির নাম ও মেয়াদও সিওএসে উল্লেখ করতে হয়।

কর্মীর আবেদন বৈধ করতে আবেদন ফি পরিশোধ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ, বায়োমেট্রিকস, প্রয়োজনীয় নথি এবং বৈধ সিওএস জমা দিতে হয়। সিওএস আবেদনের তারিখের তিন মাসের বেশি আগে ইস্যু করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। যোগ্য আবেদনকারীরা ইউকে ইমিগ্রেশন: আইডি চেক অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

ব্রিটেনের ভেতর থেকেও নির্দিষ্ট শর্তে এই রুটে পরিবর্তন করা যায়। তবে আবেদনকারী সর্বশেষ যদি ভিজিটর, সিজনাল ওয়ার্কার বা শর্ট-টার্ম স্টুডেন্টের মতো স্বল্পমেয়াদি ভিসায় ব্রিটেনে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে এই রুটে পরিবর্তন করা যাবে না।

৮ এপ্রিল ২০২৬ বা তার পরে এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করা হলে আবেদনকারীকে ব্রিটেনের বাইরে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানে মোট কমপক্ষে ছয় মাস কাজ করতে হবে। এর আগে আবেদনের ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম সময় ছিল ১২ মাস।

তবে যারা ব্রিটেনের ভেতর থেকে একই রুটে ভিসা বাড়াচ্ছেন এবং আগের অনুমতিতে একই স্পনসরের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ছয় মাসের বিদেশি কাজের শর্ত প্রযোজ্য নয়।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কারকে অবশ্যই আরকিউএফ লেভেল ৬ বা গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের চাকরিতে স্পনসর করা হতে হবে। আবেদনকারীর নিজের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক নয়; তবে তিনি যে কাজ করবেন সেটি অবশ্যই ওই দক্ষতার স্তরের হতে হবে।

গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি রুটে যোগ্য চাকরিগুলো অ্যাপেন্ডিক্স স্কিলড অকুপেশনস-এর নির্দিষ্ট তালিকায় রয়েছে। স্পনসরকে উপযুক্ত এসওসি কোড নির্বাচন করতে হয় এবং শুধু কোনো কোড ভিসার জন্য যোগ্য হওয়ার কারণে কম উপযুক্ত কোড বেছে নেওয়া যাবে না।

হোম অফিস চাকরিটির প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, আবেদনকারীর দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা এবং স্পনসরের আগের নিয়ম মেনে চলার রেকর্ড যাচাই করতে পারে।

আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতার শর্তও রয়েছে। সাধারণত স্পনসর সিওএসে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন। সেক্ষেত্রে স্পনসরকে প্রয়োজনে কর্মসংস্থানের প্রথম মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীকে থাকার ব্যবস্থা ও সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হয়, যার পরিমাণ কমপক্ষে ১ হাজার ২৭০ পাউন্ড। স্পনসর এই নিশ্চয়তা না দিলে আবেদনকারীকে ব্যাংক স্টেটমেন্টের মাধ্যমে কমপক্ষে ১ হাজার ২৭০ পাউন্ডের অর্থ দেখাতে হয়।

আবেদনকারীকে আরও প্রমাণ করতে হয় যে তিনি সত্যিকার অর্থেই যে কাজের জন্য স্পনসর করা হচ্ছে, সেই কাজটি করার উদ্দেশ্য রাখেন। হোম অফিস প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাইতে, প্রশ্ন করতে এবং আবেদনটি বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে পারে।

৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে স্পনসর গাইডেন্সে ‘এলিজিবল রোল’ বা যোগ্য পদের একটি পরীক্ষা যুক্ত হয়েছে। এটি আগের ‘জেনুইন ভ্যাকেন্সি টেস্ট’-এর সংশোধিত রূপ। এর মাধ্যমে চাকরিটির যোগ্যতা এবং স্পনসরশিপের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা আরও ঘনিষ্ঠভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসায় ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ না থাকলেও অন্যান্য নির্দিষ্ট ফি রয়েছে। ছয় মাসের কম সময়ের এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স আবেদনের ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদন ফি ৩৪০ পাউন্ড এবং সিওএস ফি ৫৫ পাউন্ড। অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রসেসিংয়ের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি হতে পারে। ছয় মাসের কম সময়ের এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ থেকে ছাড়ও রয়েছে।

আবেদন সফল হলে কর্মী তার থাকার নির্ধারিত সময়ের জন্য একটি ই-ভিসা পান। তাকে ই-ভিসার বৈধতার সময়ের মধ্যে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে হবে এবং সিওএসে উল্লেখ করা কাজ শুরুর তারিখ অনুযায়ী কাজে যোগ দিতে হবে। কর্মীর প্রথম কর্মদিবসের আগে স্পনসরকে তার রাইট টু ওয়ার্ক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।

সাধারণত সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কারকে এক বছরের জন্য ই-ভিসা দেওয়া হয়। তবে কাজের মেয়াদ এক বছরের কম হলে সিওএসে উল্লেখ করা চাকরির মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৪ দিন যোগ করে অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

এই ভিসা বাড়ানো সম্ভব হলেও একই রুটে মোট অনুমতির মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটির বিভিন্ন রুট মিলিয়ে কোনো ব্যক্তি ছয় বছরের মধ্যে মোট পাঁচ বছরের বেশি সময় ব্রিটেনে থাকার অনুমতি পেতে পারেন না।

ফলে আবেদনকারীর আগের গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি রুটে পাওয়া ভিসার ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। আগের ভিসার মেয়াদ নতুন করে কতদিনের অনুমতি দেওয়া যাবে, সেটিকে প্রভাবিত করতে পারে।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা সাময়িক থাকার অনুমতি দেয় এবং এটি নিজে থেকে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ তৈরি করে না। স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে হলে কর্মীকে এমন কোনো অভিবাসন রুটে পরিবর্তন করতে হবে, যেটি সেটেলমেন্টের সুযোগ দেয়।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

রাজনীতিতে কিছু পুরুষ “পশুর মতো আচরণ করে”: সুয়েলা ব্র্যাভারম্যান

যুক্তরাজ্য নিয়ে রাশিয়ার বিষোদগার

নিউজ ডেস্ক

বিবি স্টকহোম থেকে পোর্টসমাউথঃ এক আশ্রয়প্রার্থীর অনিশ্চিত জীবনযাত্রা