TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে স্কুলপথে নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ, ২৫০ প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু

ছুরি-সংক্রান্ত সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্কুলে যাওয়া-আসার পথে শিশুদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক সহচর নিয়োগ করা হবে, যাতে তারা নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর আধুনিক মানচিত্র প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো শনাক্ত করছে। এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ২৫০টি স্কুল চিহ্নিত করা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। প্রযুক্তিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সড়ক ও সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে, যখন অপরাধের আশঙ্কা বেশি থাকে।

এই কর্মসূচির আওতায় দাতব্য সংস্থা ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবকদের সহচর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুলে পৌঁছানো এবং বাড়ি ফেরার সময় পাশে থাকবে। এর আগে পশ্চিম মিডল্যান্ডস অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে।

২০২১-২০২২ সালে পরিচালিত ওই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ২০টি পথে ৯০ জন সহচর কাজ করেন। মূল্যায়নে দেখা যায়, এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বেশি নিরাপদ মনে করেছে এবং তাদের পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক কল্যাণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার ১২ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শদান ও দিকনির্দেশনা কার্যক্রমও চালু করা হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ছুরি-অপরাধের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পুলিশিং বিষয়ক মন্ত্রী সারাহ জোন্স বলেন, “কোনো শিশুরই স্কুলে যাওয়ার সময় ভয় পাওয়া উচিত নয়। সঠিক সহায়তা ও সময়মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে সহিংসতা আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

সরকারের লক্ষ্য এক দশকের মধ্যে ছুরি-সংক্রান্ত অপরাধ অর্ধেকে নামিয়ে আনা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধের সংখ্যা এখন বছরে ৫০ হাজারের বেশি, যা প্রায় অতীতের সর্বোচ্চ অবস্থার কাছাকাছি।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের হার ৮ শতাংশ কমেছে এবং কিশোরদের ক্ষেত্রে এই হার আরও দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। কিশোর হত্যার সংখ্যা এক বছরে ৫৪ থেকে ২২-এ নেমে এসেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে, গবেষণায় দেখা গেছে কিশোরদের মধ্যে এখনও অস্ত্র বহনের প্রবণতা উদ্বেগজনক। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন বাড়ির বাইরে ছুরি বহন করেছে বলে জানা গেছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার আশঙ্কায় এমনটি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাস্তবতায় শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, বরং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই সরকার শিক্ষার্থীদের পাশে প্রাপ্তবয়স্ক সহচর নিয়োগের মতো উদ্যোগ নিয়েছে।

ন্যায়বিচার বিষয়ক সচিব ডেভিড ল্যামি বলেন, “লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিরোধ তরুণদের সঠিক পথে আনতে সাহায্য করে। এই উদ্যোগ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক পথ তৈরি করবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি সফল হলে তা দেশের অন্যান্য এলাকায়ও সম্প্রসারণ করা হতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

জনসম্মুখে নামাজ নিয়ে বিতর্কে উত্তপ্ত ব্রিটেনের রাজনীতি

ইরান নয়, সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলঃ রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তায় ব্ল্যাকবার্ন কাউন্সিলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ